অচেনা জায়গায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে বর্তমানে গুগল ম্যাপ মানুষের অন্যতম নির্ভরতার নাম। তবে অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, লোকেশন বন্ধ করে দিলে আর কোনো তথ্য সংরক্ষণ হয় না। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। লোকেশন বন্ধ থাকলেও গুগলের বিভিন্ন অ্যাপে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম চললে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল সার্ভারে জমা হতে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারী কখন কোথায় যাচ্ছেন, কতক্ষণ অবস্থান করছেন, কোন রুট ব্যবহার করছেন—এসব তথ্য গুগল ম্যাপের টাইমলাইনে সংরক্ষিত হয়। অনেক সময় ব্যবহারকারী নিজে বুঝতেও পারেন না, কীভাবে এসব তথ্য জমা হচ্ছে।
লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করা বা টাইমলাইন মুছে ফেললেও গুগল সার্ভারে বিস্তারিত লোকেশন তথ্য থেকে যেতে পারে। এই তথ্য পরবর্তীতে ব্যবহারকারীর জন্য নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে গোপনীয়তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয় না।
গুগল অ্যাকাউন্টের ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’ পেজে নিয়মিত ওয়েব ও অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি ডিলিট করলে লোকেশন সংক্রান্ত ডেটা সংরক্ষণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক বিকল্প ম্যাপ অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
ওয়েজ ম্যাপ জনপ্রিয় হলেও এটি গুগলের মালিকানাধীন হওয়ায় একই ধরনের ডেটা সংরক্ষণের ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে অ্যাপল ম্যাপ প্রাইভেসির ক্ষেত্রে তুলনামূলক নিরাপদ হলেও তা কেবল আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য হিয়ারউইগো বা ম্যাপকোয়েস্ট বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অ্যাপ নয়, স্মার্টফোনের সেটিংসেও নজর দেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে লোকেশন বন্ধ থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ড লোকেশন অ্যাকসেস, ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি চালু থাকায় ডেটা তৈরি হতে থাকে।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের প্রতিটি অ্যাপের লোকেশন অনুমতি আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ‘অ্যালাও অল দ্য টাইম’-এর পরিবর্তে ‘অ্যালাও অনলি হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ নির্বাচন করলে গোপনীয়তা বাড়ে। নিয়মিত টাইমলাইন পর্যবেক্ষণ ও অপ্রয়োজনীয় ডেটা মুছে ফেললে সচেতনভাবে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেও লোকেশন আড়াল রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


