স্থান ও কালের ক্ষুদ্রতম গঠন কীভাবে তৈরি, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পদার্থবিদ্যায় উঠে এসেছে লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটির ধারণা। এই তত্ত্বে স্থান-কালকে দেখা হয় অসংখ্য অতিক্ষুদ্র বক্ররেখা বা লুপের সমষ্টি হিসেবে, যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গড়ে তোলে মহাবিশ্বের কাঠামো। আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিকতা যেখানে স্থান-কালের বক্রতার মাধ্যমে মহাকর্ষ ব্যাখ্যা করে, সেখানে কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলের আচরণকে ব্যাখ্যা করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোয়ান্টার মাধ্যমে।
প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষকে কোয়ান্টাম কাঠামোয় ব্যাখ্যা করাই দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ। বড় কাঠামোয় আপেক্ষিকতা যেমন সফল, তেমনি অতিক্ষুদ্র জগতে কোয়ান্টাম তত্ত্ব কার্যকর। কিন্তু দুই তত্ত্ব একসঙ্গে প্রয়োগ করতে গেলেই দেখা দেয় গাণিতিক অসঙ্গতি ও অসীম মানের সমস্যা।
এই দ্বন্দ্ব দূর করতে লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি স্থান-কালকে অবিচ্ছিন্ন না ধরে বিচ্ছিন্ন একক হিসেবে কল্পনা করে। স্পিন নেটওয়ার্ক নামের এই কাঠামোয় বহু লুপ একত্র হয়ে গড়ে ওঠে স্থান ও কালের কোয়ান্টাম রূপ। এর ফলে কৃষ্ণগহ্বর বা বিগ ব্যাংয়ের মতো সিঙ্গুলারিটির ধারণা বদলে যায়, অসীম ঘনত্বের বদলে দেখা দেয় সীমাবদ্ধ কিন্তু অত্যন্ত ঘন অবস্থা।
তবে এখনো এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ নয়। ক্ষুদ্র কাঠামো থেকে বড় জগতের মসৃণ স্থান-কাল কীভাবে বেরিয়ে আসে, সে প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর দিতে পারেনি এলকিউজি। ফলে এটি সার্বিক তত্ত্বের অন্যতম দাবিদার হলেও চূড়ান্ত সমাধান হয়ে ওঠেনি।
সিএ/এমআর


