মহাকাশের সবচেয়ে রহস্যময় বস্তুগুলোর একটি হলো নিউট্রন স্টার। বিশাল কোনো নক্ষত্র জীবনের শেষ পর্যায়ে সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর তার কেন্দ্রীয় অংশ চুপসে গিয়ে এই অতিঘন বস্তুতে রূপ নেয়। সূর্যের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি ভর একটি ছোট শহরের সমান জায়গায় সংকুচিত হলে তার ঘনত্ব কেমন হয়, তা কল্পনা করাই কঠিন।
নিউট্রন স্টারের এক চামচ উপাদানের ওজন কয়েক শ কোটি টন হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নিউট্রন স্টার সর্বোচ্চ কতটা ছোট বা ঘন হতে পারে? কোন সীমা অতিক্রম করলে এটি আর নিউট্রন স্টার না থেকে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়—এই প্রশ্নের তাত্ত্বিক উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউনিভার্সিটির তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক লুসিয়ানো রেজোল্লা বলেন, ‘নিউট্রন স্টারের ভর নির্ণয় করা তুলনামূলক সহজ হলেও এর ব্যাসার্ধ মাপা অত্যন্ত কঠিন।’ কারণ এই বস্তুগুলো পৃথিবী থেকে অনেক দূরে এবং এর ভেতরের অবস্থা আমাদের পরিচিত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মের বাইরে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিউট্রন স্টারের ভর ও ব্যাসার্ধের একটি নির্দিষ্ট অনুপাত রয়েছে, যা কখনোই এক-তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারে না। সহজভাবে বললে, কোনো নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ অবশ্যই তার ভরের তিনগুণের বেশি হতে হবে। যদি কোনো বস্তু এই সীমার চেয়ে বেশি ছোট বা ঘন হয়ে যায়, তাহলে সেটি আর নিউট্রন স্টার হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না এবং ব্ল্যাকহোলে রূপ নেবে।
এই গবেষণা কোয়ান্টাম ক্রোমোডাইনামিকসের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা নিউট্রনের ভেতরের কোয়ার্ক ও শক্তিশালী বলের আচরণ ব্যাখ্যা করে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নাইসার টেলিস্কোপ ও মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ আরও নিখুঁতভাবে মাপা সম্ভব হবে।
সিএ/এমআর


