বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনভিত্তিক অ্যাপ বাজারে দ্রুত পরিবর্তন আনছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিকে ঘিরে অ্যাপ নির্মাতাদের বিনিয়োগ ও আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এই খাতটি মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে দ্রুততম গ্রোয়িং ক্যাটেগরির শীর্ষে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের একটি ওয়ানস্টপ সল্যুশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দৈনন্দিন কাজ সহজ করা, তথ্য সংগ্রহ, লেখালেখি কিংবা সৃজনশীল কাজে সহায়তার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা এআই অ্যাপের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই অ্যাপ ডাউনলোডের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
সেন্সর টাওয়ারের স্টেট অব মোবাইল ২০২৬ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরে অ্যাপ ডাউনলোডের হিসাবে জেনারেটিভ এআই অ্যাপ সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ক্যাটেগরি হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে কয়েকটি দেশে আগের বছরের তুলনায় এসব অ্যাপ ডাউনলোডের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এ প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপ ব্যবহারের হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেনারেটিভ এআই অ্যাপের চাহিদা আরও জোরদার হয়েছে। নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া এআই অ্যাপের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চ্যাটজিপিটি। এরপর রয়েছে গুগল জেমিনি, পারপ্লেক্সিটি ও গ্রোকের মতো এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপ। ২০২৪ সাল থেকে এসব অ্যাপের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং ২০২৫ সালেও চ্যাটজিপিটি সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই সেবাকে সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে বা বিশেষ ছাড়ে প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে অপ্রত্যাশিত হারে এআই অ্যাপের ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপের পাশাপাশি মাইক্রোড্রামা প্ল্যাটফর্মের অ্যাপও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ভবিষ্যতের ডিজিটাল কাজের বড় অংশেই এআই অ্যাপ অপরিহার্য হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিএ/এমআর


