১৯৮৬ সাল শুধু ২০২৬ সালের নাগালের ইতিহাস নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানের এক বড় অধ্যায়। ৪০ বছর আগে এই বছরেই ঘটে গিয়েছিল এমন কিছু ঘটনা, যা আমাদের প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং বিনোদন জগতকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। আনন্দ আর বেদনার মিশ্রণে ভরা সেই বছরটি আজও প্রাসঙ্গিক। চলুন জেনে নিই সেই ছয়টি যুগান্তকারী ঘটনা।
১. ভয়েজার ২-এর মহাকাশ যাত্রা
১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু করা ভয়েজার ২ ১৯৮৬ সালে ইউরেনাস গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে যায়। এটি মানুষের তৈরি প্রথম বস্তু, যা ইউরেনাসের এত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছে। একই বছর সোভিয়েত ইউনিয়ন মির স্পেস স্টেশনের নির্মাণ শুরু করে, যা বহু বছরের গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক নভোচারীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। জাপান পাঠায় সুইসেই মহাকাশযান, যা হ্যালির ধূমকেতুর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
২. রুটান ভয়েজারের বিশ্বরেকর্ড
২৩ ডিসেম্বর, ১৯৮৬, রুটান ভয়েজার বিমান পুরো পৃথিবীকে বিরতি না নিয়ে একটানা ৯ দিনে পরিভ্রমণ করে। ডিজাইনার বার্ট রুটান এবং পাইলটরা এই মিশনে হালকা ও শক্তিশালী কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালের সম্ভাবনা প্রমাণ করেন। আজকের হালকা ও মজবুত গাড়ি, বিমান ও খেলনা তৈরির ভিত্তি এখান থেকেই।
৩. বাণিজ্যিক ল্যাপটপের যাত্রা
৩ এপ্রিল, ১৯৮৬ সালে বাজারে আসে প্রথম বাণিজ্যিক ল্যাপটপ, আইবিএম পিসি কনভার্টিবল। ওজন প্রায় ৬ কেজি হলেও এটি পুরো কম্পিউটারকে হাতে আনল। পোর্টেবল কম্পিউটার প্রযুক্তি এবং স্মার্টফোন-নির্ভর জীবনের প্রাথমিক ভিত্তি এখান থেকেই।
৪. স্টিভ জবস, পিক্সার ও কম্পিউটার অ্যানিমেশন
১৯৮৬ সালে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। ল্যাবিরিন্থ মুভিতে প্রথমবার সিজিআই প্রাণী দেখানো হয়। একই বছর স্টিভ জবস পিক্সারের অধিগ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে কম্পিউটার অ্যানিমেশনে বিপ্লব ঘটায়। এছাড়া কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে প্রদর্শিত ট্রানজিশনস সিনেমা প্রথম ফুল-কালার থ্রিডি আইম্যাক্স হিসেবে ইতিহাস রচনা করে।
৫. ভিডিও গেমের উত্থান
১৯৮৬ সালে নিনটেন্ডো এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। দ্য লিজেন্ড অব জেল্ডা, মেট্রয়েড এবং ড্রাগন কোয়েস্টের মতো গেমগুলোতে বিশাল জগত ও গভীর গল্প উপস্থাপন করা হয়। এর প্রভাব আজকের ওপেন-ওয়ার্ল্ড ও আরপিজি গেমের জন্ম দেয়।
৬. বিজ্ঞান ও বিপর্যয়ের ছোঁয়া
১৯৮৬ সালে ঘটে দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ২৮ জানুয়ারি চ্যালেঞ্জার স্পেস শাটল উৎক্ষেপণের পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিস্ফোরিত হয়, সাতজন ক্রু নিহত হন। পরে এপ্রিলে চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয় সংঘটিত হয়, যার প্রভাব আজও ইউক্রেন, রাশিয়া ও বেলারুশে লক্ষ্য করা যায়। এই দু’টি ঘটনা বৈজ্ঞানিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে।
১৯৮৬ সাল আনন্দ, বেদনা, উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের মিশ্রণে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে। ২০২৬ সালে ফিরে তাকালে বোঝা যায়, সেই বছরটি কতটা যুগান্তকারী ছিল।
সিএ/এমআর


