আধুনিক মোবাইল ফোনে আর আগের মতো দৃশ্যমান অ্যানটেনা দেখা যায় না। একসময় মোবাইল ফোনের ওপরে ছোট ধাতব অ্যানটেনা থাকত, যা সিগন্যাল গ্রহণ ও পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বর্তমানে স্মার্টফোনে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ভিডিও কল, ডেটা আদান–প্রদানসহ নানাবিধ কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন হয়। এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে সিগন্যাল প্রযুক্তিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের অ্যানটেনার আকার নির্ভর করে ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সি বা সিগন্যাল তরঙ্গের কম্পাঙ্কের ওপর। প্রতিটি তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে তথ্য পরিবহন হয়। বিদ্যুৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব তরঙ্গ তৈরি হয় এবং অ্যানটেনা সেই তরঙ্গ গ্রহণ করে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লিজং ঝেং ব্যাখ্যা করেন, অ্যানটেনার ভেতরের ধাতব তার চার্জিত ইলেকট্রনের গতির মাধ্যমে তরঙ্গ শনাক্ত করে এবং সেগুলোকে ব্যবহারযোগ্য সংকেতে রূপ দেয়। অ্যানটেনার আকার এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যেন তা নির্দিষ্ট তরঙ্গের অংশ ধরতে পারে।
১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ব্যবহৃত মোবাইল সিগন্যালের কম্পাঙ্ক ছিল তুলনামূলক কম, প্রায় ৯০০ মেগাহার্জ। এ ধরনের তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় সেগুলো ধরতে লম্বা অ্যানটেনার প্রয়োজন পড়ত। ফলে পুরোনো মোবাইল ফোন ও রেডিওতে বাহিরে দৃশ্যমান অ্যানটেনা দেখা যেত। পরবর্তী সময়ে ২ গিগাহার্জ বা তার বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ চালু হয়, যা দ্রুতগতির ডেটা পরিবহনে সক্ষম এবং ভেদনক্ষমতাও বেশি।
উচ্চ কম্পাঙ্কের তরঙ্গের ক্ষেত্রে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় বড় অ্যানটেনার আর প্রয়োজন পড়ে না। বর্তমানে মোবাইল ফোনের ভেতরের কাঠামোতেই চিকন ধাতব তার বসানো থাকে, যা ফোনের খোলসের মধ্যেই লুকানো থাকে। এই অভ্যন্তরীণ অ্যানটেনাই চারপাশের সিগন্যাল গ্রহণ ও প্রেরণের কাজ সম্পন্ন করে। ফলে বাহিরে আলাদা অ্যানটেনা না থাকলেও আধুনিক স্মার্টফোনে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
সিএ/এমআর


