জোনাকি পোকা আলো জ্বালায়, কিন্তু সেটা কোনো পথপ্রদর্শনের জন্য নয়। বরং, আলোর মাধ্যমে তারা নিজের ভাব প্রকাশ করে। মানুষের মতো কথা বলতে না পারা এই পোকাগুলো আলোর ঝলককে নিজেদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।
যেমন সমুদ্রে নাবিকরা লাইট হাউজের আলো দেখে দিক ঠিক করে, তেমনি জোনাকি আলোর মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। জোনাকির আলো প্রায় ৯৮ শতাংশই “ঠান্ডা” অর্থাৎ তাপ উৎপন্ন হয় না। তাই নিজের আলোতে পোড়ে যায় না।
প্রজননের সময় স্ত্রী ও পুরুষ জোনাকি একে অপরকে আকর্ষণ করতে আলো জ্বালায়। পুরুষ উড়তে উড়তে আলোর সংকেত পাঠায়, স্ত্রী ঝোপের মধ্যে বসে সাড়া দেয়। এই সংকেত লক্ষ্য করে পুরুষ স্ত্রীর কাছে যায়। প্রতিটি প্রজাতির জোনাকির আলোর সংকেত ভিন্ন, তাই স্ত্রী শুধুমাত্র তার প্রজাতির পুরুষকে চেনে।
কিন্তু কিছু স্ত্রী জোনাকি ছলনা করে ভিন্ন প্রজাতির পুরুষকে ফাঁদে ফেলে খেয়ে ফেলে। এই আচরণকে “ফেম ফ্যাটাল” বলা হয়। বিশেষত ফোটুরিস প্রজাতির স্ত্রী জোনাকিরা এ ধরনের কৌশল বেশি ব্যবহার করে।
জোনাকি পোকা আসলে বিটল বা গুবরে পোকা শ্রেণির। পৃথিবীর সব প্রজাতির পুরুষ উড়তে পারে, কিন্তু অনেক প্রজাতির স্ত্রী উড়তে পারে না। এরা লার্ভার মতো দেখতে হলেও আলো জ্বালাতে সক্ষম। জোনাকির দেহের প্রধান অংশগুলো হলো: মাথা, বুক এবং পেট। পেটের নিচে থাকা বক্স লাইট থেকে তারা আলো বের করে।
প্রজাতিভেদে জোনাকির আলো ভিন্ন রঙের হয়—সবুজ, হলুদ, লাল ইত্যাদি। সবুজ আলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
সিএ/এমআর


