রাস্তায় হাঁটার সময় হঠাৎ মাটি ধসে বিশাল গর্ত তৈরি হওয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি হাসপাতালের সামনে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া ও ১৬০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রমেই বাড়ছে, যা বিজ্ঞানের ভাষায় সিঙ্কহোল নামে পরিচিত।
সহজভাবে বলতে গেলে, সিঙ্কহোল হলো মাটির উপরিভাগ হঠাৎ ধসে গিয়ে গর্ত তৈরি হওয়া। সাধারণত মাটির নিচে থাকা চুনাপাথর বা দ্রবণীয় শিলা ভূগর্ভস্থ পানির সংস্পর্শে ক্ষয় হয়ে ফাঁপা জায়গা তৈরি করে। উপরিভাগ সেই ফাঁপা অংশ ধরে রাখতে না পারলে ধসে পড়ে সিঙ্কহোল তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিঙ্কহোল সৃষ্টির পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট—দুটি কারণই কাজ করে। অতিরিক্ত বৃষ্টি, বন্যা, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নির্মাণ, পাইপলাইন লিকেজ এসবই ঝুঁকি বাড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র বৃষ্টিপাত ও খরার প্রবণতা বাড়ায় মাটির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশে বড় সিঙ্কহোলের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার বা পুরোনো পাইপলাইনের কারণে ছোট আকারের গর্ত তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা ও সঠিক ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
সিএ/এমআর


