আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই আধুনিক সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সংযোজন। এটি এমন এক ধরনের কৃত্রিম মস্তিষ্ক, যা মানুষের মতো চিন্তা করতে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে, ভাষা বুঝতে এবং ছবি বা শব্দ চিনতে সক্ষম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এআই মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিশীল করে তুলছে।
মানুষ যেভাবে অভিজ্ঞতা থেকে শেখে, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, এআই মূলত একই প্রক্রিয়ায় ডেটা বিশ্লেষণ করে নিজেকে উন্নত করে। এই শিখন প্রক্রিয়াকে বলা হয় মেশিন লার্নিং। আর যখন এটি আরও জটিল বিশ্লেষণে সক্ষম হয়, তখন তাকে বলা হয় ডিপ লার্নিং।
১৯৫০ সালে অ্যালান টুরিং প্রথম প্রশ্ন তোলেন, যন্ত্র কি চিন্তা করতে পারে। ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়। এরপর কয়েক দশকের গবেষণার ফলে আজকের উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, যোগাযোগসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়, সার্জারি ও ইমেজ বিশ্লেষণে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষিতে ফসল পর্যবেক্ষণ ও উৎপাদন পরিকল্পনায় এআই সহায়ক হচ্ছে। সৃজনশীল ক্ষেত্রেও ছবি আঁকা, গান তৈরি বা লেখা তৈরিতে এআই ভূমিকা রাখছে।
তবে এআই নিয়ে আশঙ্কাও কম নয়। অনেকের মতে, চাকরির বাজারে মানুষের জায়গা দখল করতে পারে এআই। তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ভুয়া তথ্য তৈরির ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হলে মানবসভ্যতার অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে। মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বজায় রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সিএ/এমআর


