বিশ্বজুড়ে তিন বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী থাকার কারণে হোয়াটসঅ্যাপ এখন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সাইবার অপরাধীদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ব্রাউজারভিত্তিক অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাক, ফোন নম্বর স্ক্র্যাপিংসহ নানা ধরনের প্রতারণার ঝুঁকিতে রয়েছেন ব্যবহারকারীরা।
হোয়াটসঅ্যাপ এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা দিলেও শুধু এনক্রিপশন পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। ডিভাইসে অননুমোদিত প্রবেশ, সামাজিক প্রকৌশল বা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং দুর্বল প্রাইভেসি সেটিংস অনেক সময় ব্যবহারকারীদের ঝুঁকিতে ফেলে। তবে হোয়াটসঅ্যাপে থাকা কিছু লুকানো সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি টুল ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রথমত, প্রাইভেসি চেকআপ অপশন ব্যবহার করে প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস, লাস্ট সিন ও অ্যাবাউট কে দেখতে পারবে তা নির্ধারণ করা যায়। এতে অচেনা ব্যক্তির নজরদারি ও অপ্রয়োজনীয় বিরক্তি কমে।
দ্বিতীয়ত, অচেনা নম্বরের কল ও গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ সুবিধা চালু করলে কে আপনাকে গ্রুপে যুক্ত করতে পারবে এবং অজানা কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিউট হবে কি না তা নির্ধারণ করা যায়, ফলে স্প্যাম ও স্ক্যামের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
তৃতীয়ত, ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ চালু করলে ২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন বা ৯০ দিনের মধ্যে মেসেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদি তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
চতুর্থত, টু স্টেপ ভেরিফিকেশন ও সিকিউরিটি পিন সেট করলে নতুন ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট লগইন আরও নিরাপদ হয়। প্রয়োজনে ইমেইল যুক্ত করে অ্যাকাউন্ট রিকভারি সহজ করা যায় এবং সাম্প্রতিক সময়ে চালু হওয়া পাসকি সুবিধাও বাড়তি নিরাপত্তা দেয়।
পঞ্চমত, অ্যাপ লক ও চ্যাট লক ব্যবহার করলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডির মাধ্যমে পুরো অ্যাপ সুরক্ষিত রাখা যায়। নির্দিষ্ট চ্যাট আলাদা করে লক করে রাখার সুবিধাও রয়েছে।
ষষ্ঠত, অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি সেটিংস চালু করলে অজানা মেসেজ ব্লক করা এবং কলের সময় আইপি ঠিকানা গোপন রাখার সুবিধা পাওয়া যায়।
সপ্তমত, লিংক প্রিভিউ বন্ধ রাখলে অপ্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং ডেটা ট্র্যাকিং প্রতিরোধে সহায়ক হয়।
অষ্টমত, এনহ্যান্সড চ্যাট প্রাইভেসি ফিচার চালু করলে চ্যাট এক্সপোর্ট, অটো মিডিয়া ডাউনলোড ও এআই ভিত্তিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আসে, যা গোপনীয়তা আরও জোরদার করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে শুধু এনক্রিপশন যথেষ্ট নয়। সঠিকভাবে প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি সেটিংস কনফিগার করলেই হোয়াটসঅ্যাপকে আরও নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


