বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ বর্তমানে শুধু ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত চ্যাট, ছবি ও ভিডিও শেয়ার, গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানোসহ নানা কাজে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করছে।
এবার মেটা মালিকানাধীন এই জনপ্রিয় অ্যাপটি হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব প্ল্যাটফর্মে গ্রুপ ভয়েস ও ভিডিও কলিং সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে। জানা গেছে, ফিচারটি বর্তমানে ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে। এটি চালু হলে ব্যবহারকারীরা ওয়েব ব্রাউজার থেকেই মোবাইল ও ডেস্কটপ অ্যাপের মতো প্রায় একই মানের গ্রুপ কলিং সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য একাধিক ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও একীভূত করা। ফলে যেকোনো প্ল্যাটফর্ম থেকেই নির্বিঘ্নে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবিটাইনফো-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত করতে জোরালোভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন গ্রুপ কলিং ফিচার চালু হলে ধীরে ধীরে হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব জুম বা গুগল মিটের মতো ডেডিকেটেড ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্মের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল সংস্করণের মতোই ওয়েব ভার্সনে গ্রুপ কলে সর্বোচ্চ ৩২ জন অংশগ্রহণকারী যুক্ত হতে পারবেন। তবে প্রাথমিকভাবে এটি ৮ বা ১৬ জন দিয়ে চালু হতে পারে। এ বিষয়ে এখনো হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
এছাড়া ওয়েব সংস্করণে গ্রুপ কলে যুক্ত হতে ডিরেক্ট কল লিঙ্ক তৈরির সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি শেয়ারযোগ্য লিঙ্ক তৈরি করে অন্যদের সহজেই কলে আমন্ত্রণ জানানো যাবে, এমনকি তারা চ্যাটে সক্রিয় না থাকলেও। বড় গ্রুপ বা টিমের ক্ষেত্রে এটি কল পরিচালনাকে আরও সহজ করবে।
শুধু তাই নয়, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যক্তিগত ও গ্রুপ চ্যাটের জন্য কল শিডিউলিং ফিচার নিয়েও কাজ করছে। এতে নির্ধারিত কলের নাম, বিবরণ এবং সম্ভাব্য শুরু ও শেষের সময় উল্লেখ করা যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ে কলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হবে না; বরং এটি একটি ইভেন্ট হিসেবে তৈরি হবে, যা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে।
কল শিডিউলিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা নির্ধারণ করতে পারবেন এটি ভয়েস কল নাকি ভিডিও কল হবে। বিশেষ করে মিটিং বা অনলাইন ইভেন্টের ক্ষেত্রে এই ফিচারটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গ্রুপ কলিং, কল লিঙ্ক ও কল শিডিউলিং—এই সব ফিচারই এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং কবে নাগাদ এগুলো চালু হবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সিএ/এমআর


