গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তিন ভাঁজের স্মার্টফোন গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড উন্মুক্ত করে প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় স্যামসাং। বর্তমানে শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে সীমিত পরিসরে বিক্রি হওয়ায় এই তিন ভাঁজ করা স্মার্টফোনটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে চলমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রদর্শনী কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শোতে সিইএসে গণমাধ্যমের সামনে ডিভাইসটি প্রদর্শন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড ফোনটি দুই পাশ থেকে ভাঁজ করে গুটিয়ে রাখা যায়, ফলে এটি সহজেই পকেটে বহন করা সম্ভব। সম্পূর্ণভাবে ভাঁজ খুলে নিলে এটি ছোট আকারের একটি ট্যাবলেট কম্পিউটারের মতো ব্যবহার করা যায়। ট্যাবলেট হিসেবে ফোনটি বেশ পাতলা মনে হলেও ভাঁজ করা অবস্থায় অন্যান্য ফোনের তুলনায় আকারে বড় হয়ে যায়। ফলে হাতে ধরলে দুটি ফোন একসঙ্গে ধরে রাখার মতো অনুভূতি তৈরি হয়। ফোনটির দাম কিংবা কবে নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানায়নি স্যামসাং।
বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্টের সহযোগী পরিচালক লিজ লি সিএনএনকে জানিয়েছেন, গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড আসলে একটি ‘কৌশলগত পরীক্ষামূলক পণ্য’। তার মতে, নতুন ধরনের এই নকশা ব্যবহারকারীদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি যাচাই করাই স্যামসাংয়ের মূল লক্ষ্য। স্যামসাং বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে অগ্রণী ভূমিকা রাখে বলেই সীমিত বিক্রি হলেও এমন পণ্য পুরো শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ডে রয়েছে ১০ ইঞ্চি পর্দা, যা দুই পাশ থেকে সহজেই ভাঁজ করা যায়। তুলনামূলকভাবে স্যামসাংয়ের আগের মডেল গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সেভেনের পর্দা ছিল ৮ ইঞ্চি এবং সেটি একবার ভাঁজযোগ্য। স্যামসাং জানিয়েছে, নতুন এই ফোনটি মূলত যাঁরা কাজ ও উৎপাদনশীলতার প্রয়োজনে স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, তাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এই ফোনের পর্দা স্প্লিট স্ক্রিন সুবিধার পাশাপাশি অনেকটা ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো কাজ করতে সক্ষম। ব্যবহারকারীরা একাধিক অ্যাপ আলাদা উইন্ডোর মতো খুলে একই সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উইন্ডোর আকারও পরিবর্তন করা যাবে। ব্লুটুথ কিবোর্ড ও মাউস যুক্ত করলে ফোনটি ছোট আকারের ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।
সিএ/এমআর


