মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে—এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে একটি ব্যতিক্রমী গ্যালাক্সি ক্লাস্টার। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ১৪০ কোটি বছর পরেই এই গ্যালাক্সি ক্লাস্টারটি বিজ্ঞানীদের অনুমানের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত ছিল। এত দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এ ধরনের চরম তাপমাত্রা কেবল অনেক পরে গঠিত, পরিণত ও স্থিতিশীল গ্যালাক্সি ক্লাস্টারেই দেখা যায়।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিজ্ঞানী দাজি ঝো জানান, মহাবিশ্বের শুরুর দিকে এত উত্তপ্ত পরিবেশের আশা তারা করেননি। তিনি বলেন, প্রথমে তিনি নিজেও এই সংকেত বিশ্বাস করতে পারেননি। দীর্ঘ যাচাই–বাছাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, গ্যাসটি পূর্বাভাসের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি গরম এবং এটি বর্তমান সময়ের অনেক পরিণত ক্লাস্টারের চেয়েও শক্তিশালী।
গ্যালাক্সি ক্লাস্টার মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় গঠনগুলোর একটি। নিজস্ব মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে এগুলো হাজার হাজার গ্যালাক্সি, ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য পদার্থ) এবং অতি উত্তপ্ত গ্যাস ধরে রাখে। গ্যালাক্সির মধ্যবর্তী স্থানে থাকা এই গ্যাস প্লাজমা অবস্থায় থাকে, যার তাপমাত্রা কয়েক কোটি ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। আগে মনে করা হতো, ক্লাস্টার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার সময় মহাকর্ষীয় টানের কারণে এই গ্যাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
চিলির শক্তিশালী আলমা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি বছর আগের একটি গ্যালাক্সি ক্লাস্টার পর্যবেক্ষণ করেন। এসপিটি২৩৪৯–৫৬ নামের এই ক্লাস্টারটি তখনও পুরোপুরি পরিণত না হলেও আকারে ছিল বিশাল। এতে ৩০টির বেশি অত্যন্ত সক্রিয় গ্যালাক্সি রয়েছে, যেগুলো আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনায় অনেক দ্রুত নক্ষত্র তৈরি করছিল। এতে বোঝা যায়, মহাবিশ্বের প্রাথমিক সময়েই বড় কাঠামোগুলোর বিকাশ বেশ দ্রুত ঘটেছিল।
গবেষকদের ধারণা, ক্লাস্টারটির কেন্দ্রে থাকা তিনটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বিপুল শক্তি ছড়িয়ে এই অস্বাভাবিক তাপের সৃষ্টি করেছে। এই শক্তিশালী কার্যকলাপ আশপাশের গ্যাসকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে যে মহাবিশ্বের শুরুর সময়টা আগের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি ঘটনাবহুল ও শক্তিশালী ছিল এবং গ্যালাক্সি ক্লাস্টার গঠনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে
সিএ/এমআর


