বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেবল বিনোদনের জায়গা নয়, অনেকের জন্যই এটি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে অনেকেই পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ করছেন। তবে নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভিডিও এডিটিং শেখা এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা যন্ত্রপাতির খরচ বহন করা।
অনেক ক্ষেত্রেই ভালো মানের ক্যামেরা, কম্পিউটার এবং পেইড এডিটিং সফটওয়্যারের জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এই জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই টুলগুলো নতুনদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। এসব টুলের মাধ্যমে খুব সহজেই ভিডিও কাটা, সাবটাইটেল যোগ করা, অডিও ঠিক করা এবং প্রয়োজনীয় ইফেক্ট যুক্ত করা যায়।
এ ধরনের বেশ কিছু এআই টুল রয়েছে, যেগুলো বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং স্বল্প সময়েই ভিডিও প্রস্তুত করে দেয়। শুধু মোবাইল বা সাধারণ কম্পিউটার থাকলেই এসব টুল দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ভিডিও তৈরি সম্ভব।
এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে VEED.IO। শর্ট ভিডিও ও রিলস তৈরির জন্য এই টুলটি বেশ কার্যকর। সাইন আপ করার পর ‘ক্রিয়েট প্রজেক্ট’ অপশনে গিয়ে যে প্ল্যাটফর্মের জন্য ভিডিও বানাতে চান সেটি নির্বাচন করতে হয়। এরপর ভিডিও আপলোড করে প্রয়োজন অনুযায়ী সাবটাইটেল, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং কাটছাঁট যোগ করলেই দ্রুত ভিডিও প্রস্তুত হয়ে যায়।
দ্বিতীয় টুলটি হলো Descript। এই টুলের বিশেষ সুবিধা হলো, এখানে টেক্সট ডকুমেন্টের মতো করে ভিডিও এডিট করা যায়। চাইলে শুধু লেখা দিয়েই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ভয়েস, সাবটাইটেল ও দৃশ্য একসঙ্গে সামঞ্জস্য করে নিতে পারায় নতুনদের জন্য এটি ব্যবহার করা বেশ সহজ।
তৃতীয় টুল Invideo। এই টুলে ভিডিও তৈরি করতে হলে আগে লিখে জানাতে হয় কী ধরনের ভিডিও চান এবং কেমন ভয়েসওভার প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও তৈরি করে দেয়। প্রেজেন্টেশন, প্রোডাক্ট ভিডিও বা তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে এটি বেশ কার্যকর বলে ব্যবহারকারীরা জানান।
চতুর্থ টুল Wisecut। স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দেওয়া, সাবটাইটেল যুক্ত করা এবং ভিডিওর গতি ঠিক করার সুবিধা রয়েছে এতে। দীর্ঘ ভিডিও থেকে সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় ক্লিপ বানাতেও এটি সহায়ক। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এসব সুবিধা বিনা মূল্যে পাওয়া যায়।
যাঁরা বড় বিনিয়োগ ছাড়াই কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য এসব এআই টুল কার্যকর সমাধান হতে পারে। মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে এসব টুল ব্যবহার করে এডিট করলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডের জন্য প্রস্তুত কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


