সোমবার (১২ জানুয়ারি) সরকার দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে এবং ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ‘ন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সার রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড আইডি কার্ড ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা বিনা মূল্যে ডিজিটাল আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তর ইতোমধ্যে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করে দুর্বলতা মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।
নতুন এই আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতার ধরন ও কাজের ক্ষেত্রভিত্তিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘এটা ডিজিটাল কার্ড, কোনো প্লাস্টিক কার্ড নয়। কার্ডটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। প্ল্যাটফর্মটি তৈরির পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা। এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংযোগ স্থাপন করা হবে।’
ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে নতুন ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ফ্রিলান্সার, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপের প্রশাসক কাজী মামুন বলেন, ‘আগে ফ্রিল্যান্সার কার্ড বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে দেওয়া হতো, যেখানে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি ছিল। পাশাপাশি ব্যাংকিং সুবিধা পেতেও বেশ ঝামেলায় পড়তে হতো। নতুন প্ল্যাটফর্মটিতে কার্ড দেবে আইসিটি বিভাগ। ফলে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’
আইডি কার্ড পাওয়ার খরচ ও যোগ্যতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগে এই কার্ড নিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হতো, কিন্তু এখন এটা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের উৎসাহ দিতে আমরা ইতিমধ্যে ন্যূনতম ৫০ থেকে ১০০ ডলার আয় করা ফ্রিলান্সারদের আবেদন করার সুযোগ চালুর জন্য সুপারিশ করেছি। এতে করে নতুন ফ্রিল্যানাররা বৈধ পথে নিজেদের আয়ের অর্থ দেশে আনতে আগ্রহী হবেন।’
সিএ/এমআর


