শহরের বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মানুষের ফুসফুসে সরাসরি প্রবেশ করতে সক্ষম হচ্ছে। চীনের শিয়ান শহরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে ওই শহরের বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। গবেষকরা বলছেন, বাতাসে ভাসমান পিএম–২.৫ কণাগুলো ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে এবং স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
শিয়ান জিয়াওটং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ফোবাং লিউয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় গ্রীষ্ম ও শীতকালে সংগৃহীত এয়ার ফিল্টার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার যেমন মাস্ক, সিনথেটিক কাপড়, গাড়ির টায়ার ও প্লাস্টিক প্যাকেজিং বাতাসের প্লাস্টিক–দূষণকে বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড–১৯ মহামারির পর ব্যবহৃত মাস্কগুলো রাস্তাঘাট বা বর্জ্যস্থলে ফেলে দিলে ঘর্ষণ ও আবহাওয়াগত কারণে সেখান থেকে স্বচ্ছ পলিপ্রোপিলিন তন্তু নির্গত হয়। এছাড়া, ফিল্টারে পলিথিন টেরেফথালেট নামক পলিয়েস্টারও পাওয়া গেছে, যা সাধারণত পানীয় বোতল ও পোশাকে ব্যবহৃত হয়।
গবেষকরা জানান, কড়া সূর্যালোক ও ওজোন গ্যাসের উপস্থিতিতে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ওজোন প্লাস্টিকের উপরিভাগে ফাটল সৃষ্টি করে, যা থেকে অতিক্ষুদ্র তন্তু বাতাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাতাস, মানুষের চলাচল এবং গাড়ির চাকা এই তন্তু আরও ছোট করে দেয়, যা শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসের সঙ্গে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। প্রতিটি নিশ্বাসের সঙ্গে মানুষ এই ক্ষুদ্র কণাগুলো শ্বাসনালিতে প্রবেশ করাচ্ছে।
গবেষকরা পার্টিকেল ডসিমেট্রি বা গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে দেখেছেন, এই কণাগুলো প্রাথমিকভাবে নাক ও গলায় আটকে যায়। তবে অনেক সূক্ষ্ম তন্তু শ্বাসনালির মধ্য দিয়ে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে। শিশুদের ক্ষেত্রে ওজনের অনুপাতে শ্বাস নেওয়ার হার বেশি হওয়ায় তারা বড়দের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে। নিশ্বাসের সঙ্গে নেওয়া এই মাইক্রোপ্লাস্টিক ফুসফুসে জ্বালাপোড়া, প্রদাহ ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে।
সিএ/এমআর


