বিশ্বের নানা প্রান্তে অসংখ্য নদী রয়েছে, যা আকার, গভীরতা ও পরিবেশে আলাদা। অনেক নদী শতাব্দী পেরোনোর আগে শুকিয়ে গেলেও কিছু নদী এমনভাবে টিকে রয়েছে যে তা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন নদী হলো ‘ফিংক’। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই নদী ডাইনোসরের যুগের চেয়েও পুরোনো। স্থানীয় আদিবাসীরা আররেন্টে ভাষায় নদীটিকে লারাপিন্টা নামে ডাকে। ধারণা করা হয়, এটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় ৪০০ মাইল বিস্তৃত ফিংক নদী মূলত ঝরনা, খাল ও ছোট নালার একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। অস্ট্রেলিয়ার শুষ্ক পরিস্থিতির কারণে নদীটি সারা বছর ধরে প্রবাহিত হয় না। বছরের বেশির ভাগ সময় এটি বিচ্ছিন্ন কিছু জলাশয়ের সারি হিসেবে টিকে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার ভূতত্ত্ববিদ ভিক্টর বেকারের মতে, ফিংক নদীর প্রাচীনত্বের প্রমাণ হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর ক্রস–অ্যাক্সিয়াল ড্রেনেজ নামক ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। সাধারণত পানি সহজ পথ বেছে নেয়, কিন্তু ফিংক নদী অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকডোনেল রেঞ্জেসের শক্ত কোয়ার্টজাইট পাথরের পাহাড়কে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে সরাসরি সেগুলো ভেদ করে প্রবাহিত হয়েছে। এর অর্থ, এই পাহাড়গুলো তৈরি হওয়ার আগেই নদী সেখানে প্রবাহিত ছিল। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি বছর আগে, টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায় যখন পাহাড় উঁচু হতে শুরু করে, নদীটি নিজের প্রাচীন পথ বজায় রাখতে পাহাড়ের বুক চিরে নিচের দিকে গভীর খাদ তৈরি করতে থাকে।
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ববিদ এলেন ওহল জানিয়েছেন, ফিংক নদী টিকে থাকার প্রধান কারণ হলো অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘকালীন টেকটোনিক স্থায়িত্ব। মহাদেশের কেন্দ্রে অবস্থান এবং দীর্ঘ সময়ের স্থির ভূ-পরিবেশের কারণে এখানে বড় ধরনের ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয় ঘটেনি। ফলে ফিংক নদী প্রায় অব্যাহতভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
সিএ/এমআর


