এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়েছে। কাজ সহজ ও দ্রুত করতে এআই যেমন সহায়ক হচ্ছে, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। সম্প্রতি ডিপফেক ভিডিওর পাশাপাশি ভয়েস ক্লোনিং ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে, যেখানে পরিচিত মানুষের কণ্ঠ নকল করে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতারণার এই কৌশলে সাধারণত লক্ষ্যবস্তুর আত্মীয়, বন্ধু বা কাছের মানুষের কণ্ঠ নকল করা হয়, যাতে ভুক্তভোগী সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন। অনেক সময় ফোনে শোনা কণ্ঠ হুবহু পরিচিত ব্যক্তির মতো হওয়ায় বিষয়টি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ খেয়াল করলে এআই ভয়েস ক্লোনিং শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রথম সংকেত হলো অপ্রত্যাশিত কল। প্রতারকরা সাধারণত জানে না কোন সময় আপনার আত্মীয় বা বন্ধু ফোন করেন। তাই হঠাৎ অচেনা সময় বারবার কল এলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে যদি একই নম্বর থেকে দ্রুত একাধিকবার ফোন আসে, তাহলে বিষয়টি সন্দেহজনক ধরে নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে কল কেটে দিয়ে নম্বরটি যাচাই করা এবং প্রয়োজনে ব্লক করা নিরাপদ।
দ্বিতীয় সংকেত জরুরি অনুরোধ। ফোনে যদি বলা হয় খুব দরকার, ইমার্জেন্সি, দ্রুত টাকা পাঠান—এই ধরনের চাপ সৃষ্টিকারী কথা শোনা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহ করা উচিত। প্রতারকরা ভয় ও তাড়াহুড়োর পরিস্থিতি তৈরি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেয়, যাতে যাচাই করার সময় না পান ভুক্তভোগী। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো লেনদেন না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
তৃতীয় সংকেত হলো বলার ধরণে অমিল। কণ্ঠস্বর এক হলেও পরিচিত মানুষের স্বাভাবিক বলার ভঙ্গি, শব্দচয়ন বা আবেগের প্রকাশ অনেক সময় ঠিক থাকে না। কোথাও কোথাও রোবোটিক ধাঁচের শব্দ, অস্বাভাবিক বিরতি বা ভুল উচ্চারণ শোনা যেতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলে বুঝতে হবে এটি বাস্তব ব্যক্তি নন, বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা কণ্ঠ।
চতুর্থ সংকেত টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া। বেশির ভাগ ভয়েস ক্লোনিং প্রতারণার মূল লক্ষ্যই থাকে অর্থ হাতানো বা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা। এই ধরনের ফোনে কখনোই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, এটিএম কার্ডের তথ্য, ইউপিআই পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড দেওয়া উচিত নয়। বৈধ কোনো প্রতিষ্ঠান বা নিকট আত্মীয় এভাবে ফোনে এসব তথ্য চায় না। এমন অনুরোধ পেলেই সেটিকে প্রতারণা হিসেবে ধরে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এআই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ধরনও আরও নিখুঁত হচ্ছে। তাই শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে সচেতনতা ও যাচাইয়ের অভ্যাসই পারে এমন প্রতারণা থেকে নিরাপদ রাখতে। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সিএ/এমআর


