শীতকালে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনে বড় পরিবর্তন আসে। গরম কাপড়ের পাশাপাশি অনেকেই ব্যবহার করেন হিটার, গিজার, ইলেকট্রিক কেটলি ও রুম হিটারসহ নানা ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র। এসব যন্ত্র যেমন আরাম দেয়, তেমনি বিদ্যুৎ বিলও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস ও সহজ কৌশল অনুসরণ করলে শীতের আরাম বজায় রেখেই বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার
শীতকালে দিনের আলো কম থাকলেও দিনের বেলায় জানালা ও পর্দা খোলা রাখলে ঘরে প্রাকৃতিক আলো ও তাপ দুটোই প্রবেশ করে। এতে দিনের বেলায় অতিরিক্ত লাইট ব্যবহার করার প্রয়োজন কমে যায় এবং ঘর তুলনামূলক উষ্ণ থাকে। বিকেলের পর জানালা বন্ধ রাখলে দিনের জমে থাকা উষ্ণতা কিছুটা সময় ধরে রাখা সম্ভব হয়।
এনার্জি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার
পুরোনো বাল্ব, হিটার বা গিজার সাধারণত বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই এলইডি বাল্ব ও এনার্জি-স্টার রেটেড ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। স্মার্ট পাওয়ার প্লাগ বা মাল্টি-প্লাগ ব্যবহার করলে একসঙ্গে একাধিক যন্ত্রের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়, যা অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে সাহায্য করে।
হিটার ব্যবহারে সচেতনতা
রুম হিটার শীতের আরামের বড় উৎস হলেও এটি বিদ্যুৎ খরচের অন্যতম কারণ। তাই প্রয়োজন ছাড়া হিটার চালু না রাখাই ভালো। দরজা-জানালা বন্ধ রেখে কম সময়ের জন্য হিটার ব্যবহার করলে ঘর উষ্ণ রাখা যায়। ছোট ঘরের জন্য কম ক্ষমতার হিটার যথেষ্ট। রাতভর হিটার চালিয়ে রাখার বদলে উষ্ণ কম্বল ও গরম পোশাক ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
গিজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
গিজারের তাপমাত্রা অকারণে বেশি সেট করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়। মাঝারি তাপমাত্রা নির্ধারণ করে শুধু ব্যবহার করার সময় গিজার চালু রাখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সারা দিন গিজার অন রাখা হয়, যা বিদ্যুৎ অপচয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র বন্ধ রাখা
টিভি, চার্জার, রাউটার বা মাইক্রোওভেনের মতো যন্ত্র স্ট্যান্ডবাই মোডেও বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই ব্যবহার শেষ হলে সরাসরি সুইচ বন্ধ রাখা জরুরি। মাল্টি-প্লাগের মূল সুইচ বন্ধ রাখলে একসঙ্গে সব সংযুক্ত যন্ত্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়। মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জ শেষ হলে চার্জার খুলে রাখলেও মাস শেষে বিদ্যুৎ সাশ্রয় চোখে পড়ার মতো হয়।
সিএ/এমআর


