কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস রেকর্ড মুনাফার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) কোম্পানির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় তিন গুণ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্যামসাং তাদের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে জানিয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের অপারেটিং প্রফিট প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ওন হতে পারে। এক বছর আগে একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ৬ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন ওন। এটি স্যামসাংয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির কারণে ডেটা সেন্টার, সার্ভার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারের চাহিদা বেড়েছে, যার ফলে মেমোরি চিপের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাড়তি দাম স্যামসাংয়ের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ড্রাম চিপের কিছু কনট্রাক্ট মূল্য আগের বছরের তুলনায় ৩১৩ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।
রেকর্ড মুনাফার পূর্বাভাসের প্রভাবে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালের লেনদেনে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম কিছুটা বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারমূল্য প্রায় ১৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে স্যামসাংয়ের সব খাতে স্বস্তির খবর নেই। বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধির ফলে স্যামসাংয়ের মোবাইল ফোন ব্যবসার লাভের মার্জিনে চাপ পড়তে পারে। স্মার্টফোন তৈরির খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাজারের পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম বাড়ানো সহজ হবে না।
স্যামসাংয়ের সহ-প্রধান নির্বাহী টি এম রোহ জানিয়েছেন, মেমোরি চিপের দাম বাড়ানোর প্রভাব এড়ানো সম্ভব নয় এবং প্রয়োজন হলে পণ্যের দাম পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টার এবং এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে ২০২৬ সালেও মেমোরি চিপের সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে, যা স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করবে।
সব মিলিয়ে, এআই প্রযুক্তির উত্থান স্যামসাংয়ের জন্য নতুন গতি সঞ্চার করেছে। মোবাইল ব্যবসায় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সামগ্রিকভাবে স্যামসাংয়ের আয় ও মুনাফা বাড়ানোর ধারাটি আগামী বছরেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিএ/এসএ


