ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রোক’ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। গ্রোক ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের ছবি ডিজিটালি নগ্ন বা অর্ধনগ্ন করে তোলার অভিযোগে এক্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত, মালয়েশিয়া ও ফ্রান্স। এসব দেশ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ ওঠে, ব্যবহারকারীদের অনুরোধে গ্রোক যে কোনো মানুষের ছবিতে পোশাক সরিয়ে বিকিনি বা প্রায় নগ্ন রূপ তৈরি করছে। গত কয়েক দিনে এক্সে গ্রোকের মাধ্যমে তৈরি এমন অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক্সে ‘এডিট ইমেজ’ সুবিধা চালু হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের অপব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকে।
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছবি বিকৃত করে অশালীন কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে তারা তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশনের মতে, এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার মালয়েশিয়ার আইনে অপরাধ। যদিও এক্স এখনো দেশটিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেবা প্রদানকারী নয়, তবু প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানো রোধ করার দায় তাদের রয়েছে। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, গ্রোক কিছু ক্ষেত্রে হিজাব পরিহিত নারীদের ছবিতেও ডিজিটাল পরিবর্তন এনে মাথার স্কার্ফ সরিয়ে দিয়েছে।
এদিকে এক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক শুরুতে বিষয়টি নিয়ে রসিকতার সুরে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি নিজের এবং কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির বিকিনি পরা এআই নির্মিত ছবি ইমোজিসহ পোস্ট করেন। তবে সমালোচনা তীব্র হলে গত রোববার তিনি জানান, শিশু সংক্রান্ত এবং যে কোনো অবৈধ কনটেন্টের বিরুদ্ধে এক্স ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করলে গ্রোক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভারত সরকারও এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। গত শুক্রবার দেশটির সরকার এক্সকে চিঠি দিয়ে গ্রোকের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়। দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চ্যাটবটটি যেন নগ্নতা, যৌনতা বা অন্য কোনো বেআইনি কনটেন্ট তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধনী পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তা না হলে ফৌজদারি আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত।
ফ্রান্সও গ্রোকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। দেশটির অভিযোগ, সম্মতি ছাড়া অবৈধ যৌন কনটেন্ট তৈরি করে গ্রোক ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করতে পারে। প্যারিসের প্রসিকিউটর দপ্তর এক্স-এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগও যুক্ত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ডেটা থেকে আপত্তিকর উপাদান যথাযথভাবে বাদ না পড়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সিএ/এসএ


