ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে অনেকেই সিকিউরিটি ক্যামেরার ওপর নির্ভর করছেন। তবে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এসব ক্যামেরা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিও পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিকিউরিটি ক্যামেরা হ্যাক হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে আসায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও আধুনিক ক্যামেরাগুলো উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে, তবু বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ঘরের সিকিউরিটি ক্যামেরার নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব। নিচে সিকিউরিটি ক্যামেরা হ্যাকিং থেকে রক্ষা পাওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় তুলে ধরা হলো।
সস্তা বা অজানা উৎসের নকল ও ব্যবহৃত ক্যামেরা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত। অতিরিক্ত কম দামে বিক্রি হওয়া ক্যামেরাগুলোর সফটওয়্যার অনেক সময় দুর্বল থাকে, যা হ্যাকারদের জন্য সহজ লক্ষ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে ব্যবহৃত ক্যামেরা কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ এগুলো পুরোপুরি রিসেট করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
ক্যামেরা কেনার সময় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও ডেটা এনক্রিপ্ট হয়ে আদান-প্রদান হয়, ফলে মাঝপথে ডেটা আটকানো হলেও তা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। নামকরা অনেক ব্র্যান্ড এই সুবিধা দিয়ে থাকে, তবে সেটিংসে গিয়ে এটি চালু আছে কিনা নিশ্চিত করতে হবে।
ক্যামেরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অতীতে কোনো ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ডেটা লিক বা তথ্য ফাঁসের অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো। কিছু ব্র্যান্ড ক্লাউড স্টোরেজের পরিবর্তে লোকাল স্টোরেজ ব্যবহার করে, যা অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও নিরাপদ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করাও অত্যন্ত জরুরি। দুর্বল ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড হলে শুধু ক্যামেরাই নয়, ঘরের অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওয়াই-ফাই এনক্রিপশন চালু রাখা এবং সম্ভব হলে আলাদা গেস্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মিত ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট অ্যাপের সফটওয়্যার আপডেট করা উচিত। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে নতুন ফিচারের পাশাপাশি পুরোনো নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোও ঠিক করা হয়। অটো আপডেট সুবিধা থাকলে তা চালু রাখা এবং মাঝে মধ্যে নিজে যাচাই করা ভালো।
টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু থাকলে নিরাপত্তা আরও এক ধাপ বাড়ে। এতে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে না; অতিরিক্তভাবে এসএমএস কোড, ইমেইল ভেরিফিকেশন বা বায়োমেট্রিক অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ঘরে সিকিউরিটি ক্যামেরা ব্যবহার ঝুঁকিমুক্ত নয়, তবে সচেতন ব্যবহার এবং কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চললে হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সিএ/এসএ


