ফজরের নামাজ ইসলামে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। এটি শুধু সময়মতো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের একটি মাধ্যম নয়, বরং মুমিনের ইমান ও ধৈর্যের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। শীতের ভোরে আরামদায়ক বিছানা ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া মানে সত্যিকারের ঈমানদারের পরিচয় দেওয়া।
ফজরের নামাজে থাকার আল্লাহর সন্তুষ্টি
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা সেই বান্দার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও বিস্মিত হন, যে শীতের রাতে আরামদায়ক বিছানা ছেড়ে শুধু নামাজের জন্য উঠে দাঁড়ায়।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৮০২)। অর্থাৎ ফজরের নামাজ আদায় করার মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর নৈকট্য ও বরকতের অধিকারী হন।
কোরআনে ফজরের নামাজের বিশেষ গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘…আর ফজরের নামাজ; নিশ্চয়ই ফজরের নামাজ পরিলক্ষিত হয় বিশেষভাবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৭৮)। এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহর দৃষ্টিতে ফজরের নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফজরের নামাজে ফেরেশতাদের সাক্ষী
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতে একদল ফেরেশতা ও দিনে একদল ফেরেশতা বান্দাদের কাছে যাতায়াত করে। তারা ফজরের ও আসরের নামাজের সময় একত্রিত হয়। ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে জানায়, ‘আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তারা নামাজরত ছিল, আর যখন ছেড়ে এলাম তারা তখনো নামাজরত ছিল।’ এটি ফজরের নামাজের গুরুত্বকে আরও প্রমাণ করে।
সুন্নত ফজরের মর্যাদা
হাদিসে এসেছে, ‘ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ মুসলিম: ৭২৫)। শুধু সুন্নতের সওয়াবই এত মহান, তাই ফরজ ফজরের সওয়াব ও মর্যাদা অনুমেয়।
ফজরের নামাজ আদায় করলে একদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, অন্যদিকে বান্দার জীবনে বরকত, শান্তি ও আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি ইমান ও ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং আত্মসংযমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
সিএ/এসএ


