ওমরাহ ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। শারীরিক দুর্বলতা, বার্ধক্য বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে অনেকেই নিজে ওমরাহ পালনে অক্ষম হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ ওমরাহ পালন করতে পারবে কি না—এ নিয়ে ইসলামী ফিকহশাস্ত্রে সুস্পষ্ট আলোচনা রয়েছে।
ইসলামী শরিয়াহ মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা বৈধ। এ বিষয়ে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে এক ব্যক্তি তাঁর পিতার শারীরিক অক্ষমতার কথা জানালে রাসূল সা. তাকে পিতার পক্ষ থেকে হজ ও ওমরাহ পালনের অনুমতি দেন। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, শারীরিকভাবে অক্ষম জীবিত ব্যক্তি কিংবা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও ওমরাহ আদায় করা শরিয়তসম্মত।
এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. মত দেন যে, কোনো নেক আমল সম্পাদন করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত ব্যক্তির জন্য দান করা বৈধ এবং তা উপকারে আসে। তবে তিনি মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করাকে অধিক ফজিলতপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম এবং এমন সৎ সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। এই হাদিসে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও তার কাছে পৌঁছানো যায়, তবে দোয়ার মর্যাদা এখানে অগ্রাধিকার পেয়েছে।
জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ করার সুযোগ রয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ওমরাহ করা বৈধ, যদি তিনি নিজে শারীরিকভাবে অক্ষম হন। এ ক্ষেত্রে ইহরাম বাঁধার সময় নির্দিষ্টভাবে যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করা হচ্ছে, তার নিয়ত করতে হবে এবং তালবিয়াও তার পক্ষ থেকেই আদায় করতে হবে।
অন্যদিকে করাচির জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ার ফতোয়া বিভাগ জানায়, বদলি হজের বিষয়ে স্পষ্ট দলিল থাকলেও বদলি ওমরাহর ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশনা তুলনামূলক কম। তবে নিজের পক্ষ থেকে ওমরাহ আদায় করে তার সওয়াব যে কাউকে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে তারা মত দেয়।
সব দিক বিবেচনায় ইসলামে বদলি ওমরাহ বৈধ বলে প্রতীয়মান হয়। মৃত ও জীবিত উভয়ের পক্ষ থেকেই তা আদায় করা যায়, তবে অবশ্যই শরিয়াহসম্মত নিয়ম ও সঠিক নিয়তের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথাও ইসলামী শিক্ষায় বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এসএ


