মৃত্যুর পর কবর হচ্ছে আখিরাতের প্রথম মঞ্জিল। এই মঞ্জিলেই মানুষের পরবর্তী জীবনের অবস্থান অনেকটাই নির্ধারিত হয়। যারা কবরের এই ধাপটি সহজে অতিক্রম করতে সক্ষম হন, তাঁদের জন্য আখিরাতের পরবর্তী মঞ্জিলগুলো সহজ ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। আর যারা এখানে শাস্তির মুখোমুখি হন, তাঁদের জন্য পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন ও ভয়ংকর হয়।
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, মানুষের মৃত্যুর পর তার নিজস্ব আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু আমল রয়েছে, যেগুলোর সওয়াব মৃত্যুর পরও মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে পারে। এসব আমলের মাধ্যমে জীবিতরা তাদের মৃত স্বজনদের জন্য উপকারের পথ তৈরি করতে পারেন।
নামাজ
নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। নামাজ আদায় করে মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব পৌঁছানো জায়েজ বলে আলেমরা মত দিয়েছেন। ইবনে কুদামা (রহ.) দোয়া, ইস্তিগফার, হজ ও রোজার ঈসালে সওয়াব সংক্রান্ত একাধিক হাদিস উল্লেখ করে বলেন—
وهذه أحاديث صحاح، وفيها دلالة على انتفاع الميت بسائر القرب؛ لأن الصوم والحج والدعاء والاستغفار عبادات بدنية، وقد أوصل الله نفعها إلى الميت، فكذلك ما سواها
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, রোজা, হজ, দোয়া ও ইস্তিগফারের মতো শারীরিক ইবাদতের সওয়াব যদি মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়, তবে অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও একইভাবে পৌঁছাবে। আলমুগনী গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
রোজা
রোজা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য ইবাদত। এটি তাকওয়া অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাদিসে বর্ণিত আছে, মানুষের প্রতিটি আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়—কখনো দশ গুণ, কখনো সাতশ গুণ পর্যন্ত। তবে রোজা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, এটি একান্তই আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। বান্দা আমার সন্তুষ্টির জন্য পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকে।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
কেউ রোজা জিম্মায় রেখে মারা গেলে তার অভিভাবক যেন তার পক্ষ থেকে রোজা রাখে। (বুখারি ১৯৫২)
আরেক হাদিসে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, তার মা মারা গেছেন অথচ তাঁর ওপর এক মাসের রোজা বাকি ছিল। তিনি কি সেই রোজা আদায় করতে পারবেন? নবীজি উত্তরে বলেন, হাঁ। আল্লাহর ঋণই অধিকতর পরিশোধযোগ্য। (বুখারি ১৯৫৩)
কোরআন তেলাওয়াত
পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর কালাম এবং মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং ঈমান দৃঢ় হয়। হজরত মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
তোমরা তোমাদের মাইয়িতের জন্য সুরা ইয়াসিন পাঠ করো। (আবু দাউদ ৩১২১)
আরেক বর্ণনায় হজরত আবদুর রহমান ইবনে আলা ইবনে লাজলাজ বলেন, তাঁর পিতা সন্তানদের উদ্দেশে বলেছেন—
আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে কবরে রাখবে এবং بسم الله وعلى سنة رسول الله বলে সুন্দরভাবে মাটি বিছিয়ে দেবে। তারপর আমার মাথার কাছে সুরা বাকারার শুরু ও শেষাংশ পাঠ করবে। আমি ইবনে উমর (রা.)–কে এটি পছন্দ করতে দেখেছি।
এসব আমলের মাধ্যমে জীবিতরা মৃত স্বজনদের জন্য সওয়াব পৌঁছাতে পারেন এবং তাদের আখিরাতের পথ সহজ করার চেষ্টা করতে পারেন।
সিএ/এসএ


