মানবকল্যাণে উদ্বিগ্ন একজন মানুষ সব সময়ই প্রিয়জনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকেন। ইসলাম ধর্মে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য গভীর মমতা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের সঠিক পথে রাখার জন্য বিভিন্ন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। হাদিসের আলোকে উম্মতের জন্য তাঁর এমন আটটি আশঙ্কার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, পার্থিব মোহ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় করি না; বরং আমি ভয় পাই যে তোমাদের আগের জাতিগুলোর মতো তোমাদের সামনেও দুনিয়ার প্রাচুর্য অবারিত করে দেওয়া হবে। এরপর তোমরাও তাদের মতো দুনিয়ার মোহে পড়ে প্রতিযোগিতায় নামবে এবং তা তোমাদের সেভাবেই ধ্বংস করে দেবে, যেভাবে পূর্ববর্তীদের করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩১৫৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৬১)
লোকদেখানো আমলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে ‘গুপ্ত শিরক’ ও গোপন কামনার ভয় করি।’ এবং ‘তারা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আশায় নিজের আমলগুলো প্রদর্শন করবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৭১১৮)
অন্যকে শিরকের অপবাদ দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও তিনি সতর্ক করেন এবং বলেন, ‘যে অপবাদ দেবে, সে–ই।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৮১)
সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে তিনি ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে অযোগ্যদের শাসন, নিরপরাধ হত্যা, বিচার বিক্রি, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা, কোরআনকে বিনোদনের উপকরণ বানানো এবং চাটুকারদের আধিক্য।
পথভ্রষ্ট নেতৃত্বের বিষয়েও তিনি বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টকারী নেতাদের ভয় করি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২২২৯)
চারিত্রিক বিচ্যুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার উম্মতের ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই কওমে লুতের নিকৃষ্ট আমলকে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৫৭)
ধর্মীয় বিষয়ে অবহেলা সম্পর্কেও তিনি সতর্ক করেন এবং আলেমদের পদস্খলন, কোরআন নিয়ে বিতর্ক ও ভাগ্য অস্বীকারের বিষয় উল্লেখ করেন।
সবশেষে জিহ্বার অপব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটিরই ভয় সবচেয়ে বেশি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১০)
এই সতর্কবার্তাগুলো অনুসরণ করে চলাই একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


