ইসলামের ইতিহাসে নারীর অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে নারীরা অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার ছিলেন। সমাজে তাদের কোনো মর্যাদা বা অধিকার ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.) নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সমাজে নারীর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন অনাচার দূর করার আহ্বান জানান।
জাহেলি যুগে কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নির্মম প্রথা চালু ছিল। এর বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেন এবং বলেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন মায়ের অবাধ্যতা, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া, কারো প্রাপ্য না দেয়া এবং অন্যায়ভাবে কিছু নেয়া আর অপছন্দ করেছেন অনর্থক বাক্য ব্যয়, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা, আর মাল বিনষ্ট করা। (বুখারি: ২৪০৮)।
তিনি আরও বলেন- যার গৃহে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করল, অতঃপর সে তাকে কষ্ট দেয়নি, তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়নি এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২২৩)।
নারীদের মতামতের গুরুত্ব সম্পর্কেও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবী (সা.) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন, যা সেই সময়ের সামাজিক বাস্তবতায় ছিল ব্যতিক্রম।
নারীর সম্মান রক্ষায় ইসলাম কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- যারা সচ্চরিত্রা সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব। (সূরা নূর: ২৩)।
পারিবারিক জীবনে নারীর মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন- গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ। আর দুনিয়ার মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রীলোকের চেয়ে অধিক উত্তম কোন সম্পদ নাই। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫৫)।
মায়ের মর্যাদা প্রসঙ্গে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সদাচার প্রাপ্তির অগ্রগণ্য ব্যক্তি কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেন- তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেন- তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেন- তোমার পিতা।
সম্পদের ক্ষেত্রেও নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। উত্তরাধিকার এবং মোহরানার মাধ্যমে নারীরা সম্পদের মালিক হতে পারেন এবং নিজের ইচ্ছামতো তা ব্যয় করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ইসলাম নারীদের মর্যাদা, অধিকার এবং সম্মান নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


