ইসলামে অপচয়কে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং এটিকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে দেখা হয়। আল্লাহ মানুষের জীবনে যে নিয়ামত দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। এই সতর্কবার্তা অপচয়ের ক্ষতিকর দিককে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং সংযমী জীবনযাপনের গুরুত্ব নির্দেশ করে।
অপ্রয়োজনীয় খরচ, লোক দেখানো ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক অপচয় ব্যক্তি ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে অহংকার ও বড়াইয়ের প্রবণতা বাড়ে, যা ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয়ও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পদের অপব্যবহার দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
একইভাবে সময়ের অপচয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মানুষের জীবনে সুস্থতা ও অবসর—এই দুটি নিয়ামতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খাদ্যের অপচয় নিয়েও ইসলাম কঠোর সতর্কতা দিয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। এতে বোঝা যায়, সংযম ও দায়িত্বশীলতা ইসলামি জীবনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তি পর্যায়ে সংযম চর্চা শুরু হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
সিএ/এমআর


