ইসলামে কিবলা বলতে নির্দিষ্ট একটি দিককে বোঝায়, যেদিকে মুখ করে মুসলমানরা নামাজ আদায় করেন। ইসলামের সূচনালগ্নে এবং মদিনায় হিজরতের পর প্রায় ১৬ মাস পর্যন্ত মুসলমানরা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন।
সে সময় ইহুদিরা এ বিষয়টি নিয়ে নানা অপপ্রচার চালাত। তারা দাবি করত, যেহেতু মুসলমানদের কিবলা তাদের মতোই, তাই ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তাদের অনুসরণ করা উচিত।
এ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর অন্তরে কাবাকে কিবলা হিসেবে নির্ধারণের আকাঙ্ক্ষা জাগে। মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আল্লাহর নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলেন এবং প্রায়ই আকাশের দিকে তাকিয়ে ওহির প্রত্যাশা করতেন।
হিজরি দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে, মতান্তরে রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে, একদিন নবীজি (সা.) সাহাবিদের নিয়ে বনু সালামা এলাকায় অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় নামাজের মাঝামাঝি পর্যায়ে জিবরাইল (আ.) ওহি নিয়ে অবতীর্ণ হন।
মহান আল্লাহ বলেন, “আমি লক্ষ করি তুমি আকাশের দিকে বারবার তাকাও। তাই তোমাকে এমন এক কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ করবে। সুতরাং তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও। তোমরা যেখানেই থাক না কেন কাবার দিকে মুখ ফেরাও। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিতভাবে জানে যে এ তাদের প্রতিপালক-প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহর অজানা নেই।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৪৪)
ওহি পাওয়ার পর নবীজি (সা.) নামাজের মাঝখানেই দিক পরিবর্তন করে কাবার দিকে মুখ ফেরান এবং বাকি নামাজ সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে মুসলমানদের কিবলা স্থায়ীভাবে কাবা শরিফ নির্ধারিত হয়।
এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মদিনার একটি মসজিদ বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করে, যা কিবলাতাঈন মসজিদ নামে পরিচিত। এই মসজিদে একই নামাজে দুই কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ আদায়ের ঘটনা ঘটেছিল।
সিএ/এমআর


