অতিথি আপ্যায়ন ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও অতিথি আপ্যায়নে গুরুত্ব দিতেন এবং সাহাবিদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করতেন।
ইসলামি শিক্ষায় অতিথিকে স্বাগত জানানো ও তার প্রতি সদাচরণ করা মুমিনের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে কোনো অতিথি এলে তিনি আন্তরিকভাবে তাদের অভ্যর্থনা জানাতেন এবং খুশি প্রকাশ করতেন।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধিদল মহানবী (সা.)-এর কাছে এলে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিনিধি দলের প্রতি ‘মারহাবা’। যারা লাঞ্ছিত ও লজ্জিত হয়ে আসেনি।’ (বোখারি : ৬১৭৬)।
অতিথির সঙ্গে সদাচরণ করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন মেহমানের প্রতি সদাচরণ করে।’ (মুসলিম : ৪৭)।
অতিথি আপ্যায়নের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং এতে ঘরে বরকত নেমে আসে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে মেহমানদারি করা হয়, উটের কুঁজের গোশত কাটার উদ্দেশে ছুরি যত দ্রুত অগ্রসর হয়, সে ঘরে বরকত এর চেয়েও দ্রুত প্রবেশ করে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
অতিথিসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে মেহমানদারি করে না, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।’ (মুসনাদে আহমাদ)।
মেহমানদারির সময়সীমা সম্পর্কেও ইসলামে দিকনির্দেশনা রয়েছে। একদিন একরাত বিশেষভাবে আপ্যায়ন করা ওয়াজিব এবং তিনদিন তিনরাত সাধারণভাবে আপ্যায়ন করা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। এর বেশি সময় থাকলে তা সদকার অন্তর্ভুক্ত হয়।
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত। সাধারণ মেহমানদারি তিনদিন ও তিনরাত। এরপর (তা হবে) সদকা। মেজবানকে কষ্ট দিয়ে তার কাছে মেহমানের অবস্থান করা বৈধ নয়।’ (বোখারি : ৬১৩৫)।
সিএ/এমআর


