অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। তবে কেউ যদি অনুতপ্ত হয়ে সেই ভুল থেকে ফিরে আসতে চান, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—মালিককে খুঁজে না পেলে কীভাবে দায়মুক্তি সম্ভব।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, তওবা কবুল হওয়ার জন্য কেবল অনুতাপ যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে যখন তা অন্যের অধিকার সম্পর্কিত। মূল শর্ত হলো আত্মসাৎ করা সম্পদ প্রকৃত মালিক বা তার উত্তরাধিকারীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
তবে বাস্তবে অনেক সময় মালিককে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। একটি মতে, মালিককে সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তওবা পূর্ণ হয় না এবং কেয়ামতের দিন নিজের নেক আমল দিয়ে সেই দায় পরিশোধ করতে হবে।
অন্য একটি মতে, সেই সম্পদ নিজের কাছে রাখা বা ব্যবহার করা যাবে না। বরং তা সরকারি কোষাগার বা বিশ্বস্ত কারও কাছে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে ফেরত দেওয়া যায়।
আরেকটি মত অনুযায়ী, যদি মালিককে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়, তবে সেই সম্পদ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে। এটি নিজের সওয়াবের জন্য নয়, বরং প্রকৃত মালিকের পক্ষ থেকে দায়মুক্তির উদ্দেশ্যে করতে হবে।
ইসলামের ইতিহাসে সাহাবিদের জীবনেও এ ধরনের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে মালিককে খুঁজে না পেয়ে সম্পদ গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সময়ের আলেমদের মতে, প্রথমে মালিককে খোঁজার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। এরপরও না পাওয়া গেলে সেই সম্পদ জনকল্যাণে ব্যয় করাই উত্তম পথ।
সিএ/এমআর


