মহানবী (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর প্রিয় উট ‘কাসওয়া’। এটি শুধু একটি বাহন ছিল না, বরং নবুয়তের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর সাক্ষী হিসেবে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে।
সিরাত ও হাদিসের গ্রন্থগুলোতে কাসওয়ার উল্লেখ অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে করা হয়েছে। নবীজির সবচেয়ে পরিচিত উটটির নাম ‘কাসওয়া’ হলেও কিছু বর্ণনায় ‘আদবা’ ও ‘জাদআ’ নামও পাওয়া যায়। অনেক গবেষকের মতে, এগুলো একই উটের ভিন্ন নাম।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় এই উটই ছিল নবীজির সফরসঙ্গী। মদিনায় পৌঁছানোর পর সাহাবিরা নবীজিকে নিজেদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে তিনি বলেন, “উটকে ছেড়ে দাও, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট।”
উটটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে বসে পড়ে, যেখানে পরবর্তীতে মসজিদে নববী নির্মিত হয়। এই ঘটনাকে মুসলমানরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন।
হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়ও কাসওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। মক্কার কাছে পৌঁছে উটটি হঠাৎ থেমে যায়। সাহাবিরা এটিকে ক্লান্তি মনে করলেও নবীজি (সা.) বলেন, “কাসওয়া ক্লান্ত হয়নি, আর এটি তার স্বভাবও নয়; বরং তাকে সেই সত্তা রুখে দিয়েছেন, যিনি হস্তিবাহিনীকে মক্কায় প্রবেশ থেকে রুখে দিয়েছিলেন।”
নবীজির ইন্তেকালের পর কাসওয়া শোকাহত হয়ে পড়ে এবং খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন পর এটি মারা যায় বলে বর্ণনা রয়েছে। এই ঘটনা নবীজির প্রতি তার গভীর সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
কাসওয়ার জীবনী থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা এবং নবীজির জীবনের প্রতিটি ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
সিএ/এমআর


