মানুষের জীবনে সফলতার ধারণা কেবল পার্থিব অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এমন দৃষ্টিভঙ্গিই তুলে ধরে পবিত্র কোরআন। এতে জাগতিক প্রচেষ্টা ও আধ্যাত্মিক নির্ভরতার সমন্বয়কে প্রকৃত সফলতার পথ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, “আমি তোমার ওপর আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে তুমি আমার চোখের সামনে গড়ে ওঠো।” (সুরা তোয়াহা, আয়াত: ৩৯)। এই আয়াত মানুষের জীবনে আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানের বিষয়টি তুলে ধরে।
ইসলাম অনুযায়ী, জাগতিক সফলতা নির্ভর করে নির্দিষ্ট নিয়ম বা কারণের ওপর। যে পরিশ্রম করে, সে ফল পায়—এটি একটি সার্বজনীন নীতি। আধুনিক বিশ্বের উন্নয়নও মূলত এই নিয়ম অনুসরণের ফল।
তবে একজন মুমিন তার অর্জনকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে না দেখে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করেন। কোরআনে অহংকার পরিহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কৃতজ্ঞতার মনোভাবকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি কোরআন এমন এক অদৃশ্য সহায়তার কথাও বলে, যা মানুষের প্রচেষ্টার বাইরেও কাজ করে। এই খোদায়ী সহায়তা কখনো সরাসরি বিপদ থেকে রক্ষা করে, আবার কখনো সঠিক পথের দিশা দেখায়।
ইতিহাসে বহু ঘটনার মাধ্যমে এর উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন সংকটময় মুহূর্তে নবীদের প্রতি আল্লাহর সহায়তা এবং তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দোয়া, তওবা, তাকওয়া ও মানবসেবা—এই গুণগুলো একজন মানুষের জীবনে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য লাভের পথ সুগম করে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য জাগতিক চেষ্টা ও আধ্যাত্মিক নির্ভরতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


