মানুষের জীবনে নিরাপত্তা একটি মৌলিক প্রয়োজন, যা হারিয়ে গেলে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। ইসলাম ধর্মে এই নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত পরিভাষা হলো ‘আমান’, যার অর্থ ভয়মুক্তি, প্রশান্তি ও স্থিরতা। ভবিষ্যতে কোনো অনিষ্টের আশঙ্কা না থাকাই প্রকৃত নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র কোরআনে নিরাপত্তাকে আল্লাহর একটি বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খাবার ও নিরাপত্তা—এই দুই বিষয় একটি সমাজের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরিবার-পরিজনসহ নিরাপদে সকালে ঘুম থেকে উঠল, যার শরীর সুস্থ এবং তার কাছে সেই দিনের খাবার আছে—তাকে যেন পুরো পৃথিবীটাই দিয়ে দেওয়া হলো।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৬)
নিরাপত্তাহীনতা কোনো সমাজকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এতে অর্থনীতি, শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশীলন—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ইসলামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা। দ্বিতীয়ত, ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা। তৃতীয়ত, জুলুম ও অন্যায়ের পথ পরিহার করা। চতুর্থত, সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা। পঞ্চমত, ফিতনা ও অস্থিরতা থেকে দূরে থাকা।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, ন্যায়বিচারই নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে মানুষ নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারে এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
নিরাপত্তা কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। কৃতজ্ঞতা ও সৎকর্মের মাধ্যমে এই নেয়ামতকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


