ইসলামে মানুষের প্রতিটি কাজ—ছোট বা বড়—সবকিছুর হিসাব রাখা হয় এবং কেয়ামতের দিন তার পূর্ণ প্রতিফলন দেওয়া হবে। অতি সামান্য ভালো কাজ যেমন মূল্যবান, তেমনি ক্ষুদ্র গুনাহও অবহেলার বিষয় নয়।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষ সেদিন তার সব কাজের হিসাব দেখতে পাবে। কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে তা দেখবে, আর কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে তাও দেখতে পাবে। (সুরা জিলজাল: ৬-৮)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ ভাবা উচিত নয়। ছোট একটি সৎকর্মও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে। একইভাবে ছোট গুনাহ অব্যাহতভাবে করলে তা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হাদিসে এসেছে, আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত—নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না; এমনকি ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করাও একটি সৎকর্ম। (সহিহ মুসলিম)
আরেক হাদিসে আদি ইবনে হাতেম (রা.) থেকে বর্ণিত—নবীজি (সা.) বলেছেন, আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করো, তা এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও; যদি তা সম্ভব না হয়, তবে একটি ভালো কথা বলেও। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এ থেকে বোঝা যায়, ছোট ছোট নেক আমলও আখেরাতে বড় প্রতিদান বয়ে আনতে পারে। নিয়ত বা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে একটি ছোট কাজও অনেক বড় হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ছোট গুনাহ যদি নিয়মিত করা হয় এবং তওবা না করা হয়, তবে তা একসময় বড় আকার ধারণ করে। হাদিসে ছোট গুনাহকে কাঠের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা জমতে জমতে একসময় বড় আগুনের সৃষ্টি করে।
তাই ইসলামে ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ প্রতিটি কাজই লিপিবদ্ধ হচ্ছে এবং এর ফলাফল একদিন অবশ্যই সামনে আসবে।
সিএ/এমআর


