ইসলামে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাক্ষী রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো কেনাকাটায় এটি বাধ্যতামূলক না হলেও জমি, বাড়ি, গাড়ি বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের ক্ষেত্রে সাক্ষী রাখা ও লিখিত চুক্তি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং আধুনিক আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষার একটি কার্যকর উপায়। ব্যবসায়িক লেনদেনে ভুল, ভুলে যাওয়া বা অস্বীকারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা সাক্ষী ও লিখিত দলিলের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী বড় লেনদেনে সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ, মূল্য, পরিশোধের শর্ত এবং অন্যান্য শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। পাশাপাশি চুক্তির সত্যতা নিশ্চিত করতে ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী রাখা প্রয়োজন।
সাক্ষী রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো মানুষের মরণশীলতা। ক্রেতা বা বিক্রেতার কেউ মৃত্যুবরণ করলে পরবর্তীতে উত্তরাধিকারীরা দাবি তুলতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাক্ষী ও দলিল বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়ক হয়।
ছোটখাটো দৈনন্দিন কেনাকাটায় ইসলাম শিথিলতা দিয়েছে। প্রতিটি ছোট লেনদেনে সাক্ষী বা দলিল বাধ্যতামূলক করা হলে মানুষের জন্য তা কষ্টকর হয়ে উঠত। তাই সাধারণ লেনদেনে পারস্পরিক বিশ্বাসই যথেষ্ট বলে বিবেচিত।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াতে লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত দলিল ও সাক্ষীর গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াতকে ‘আয়াতুদ দাইন’ বলা হয়, যেখানে ঋণ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি আইনশাস্ত্রে এই নীতিকে লেনদেনের শিষ্টাচার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক আইনি ব্যবস্থাতেও বড় লেনদেনে দলিল ও সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত, যা ইসলামের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিএ/এমআর


