ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে নারীদের মধ্যে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যায় যাঁরা বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন উম্মে সালামা (রা.)। তিনি কেবল একজন সাহাবিয়া নন, বরং ধর্মীয় জিজ্ঞাসার নির্ভরযোগ্য সমাধানদাতা হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
সাহাবিদের মধ্যেও জটিল ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তাঁরা উম্মে সালামা (রা.)-এর শরণাপন্ন হতেন। তাঁর জ্ঞান ও বিশ্লেষণক্ষমতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান এনে দিত।
একবার আবদুর রহমান ইবনে আউফ তাঁর বিপুল সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে উম্মে সালামা (রা.) তাকে আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সম্পদ আল্লাহর দান, তাই তা সৎ কাজে ব্যয় করলে ভয় থাকার কারণ নেই।
তিনি কোরআনের সঠিক তেলাওয়াত ও উচ্চারণ শেখাতেও বিশেষ দক্ষ ছিলেন। সাহাবিরা তাঁর কাছ থেকে কোরআন পাঠের সূক্ষ্ম দিকগুলো শিখতেন, যাতে কোনো ভুল না থাকে।
ধর্মীয় বিধান নিয়ে মতবিরোধের ক্ষেত্রেও তাঁর মতামত গুরুত্ব পেত। একাধিক ঘটনায় দেখা যায়, ইদ্দত বা নামাজসংক্রান্ত বিষয়ে সাহাবিদের দ্বিধা দূর করতে তিনি নির্ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
উম্মে সালামা (রা.)-এর জ্ঞানের গভীরতা ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করত। তিনি এমনভাবে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতেন, যাতে প্রশ্নকারীর মনে আর কোনো সন্দেহ না থাকে।
তার জীবন থেকে বোঝা যায়, তিনি জ্ঞান বিতরণে কখনো কুণ্ঠাবোধ করতেন না এবং সত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি একজন প্রাজ্ঞ ফকিহা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
সিএ/এমআর


