প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলের হাজার বছরের পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময় সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, আসেরীয়সহ বহু সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে এই অঞ্চলে। পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বহু নবী-রাসুলের স্মৃতিও বহন করে এই ভূখণ্ড। ফলে এর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর।
বর্তমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা সরাসরি যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর দেশজুড়ে অন্তত ৫৬টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
তেহরানের গুলিস্তান প্রাসাদ, ইস্পাহানের ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং ইউনেসকো স্বীকৃত বিভিন্ন নিদর্শন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে লেবাননের প্রাচীন টাইর নগরীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইস্পাহানের গভর্নর মেহদি জামালিনেজাদ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘ইসফাহান কোনো সাধারণ শহর নয়, এটি ছাদবিহীন একটি জাদুঘর। আফগান যুদ্ধ, মোগল আক্রমণ, এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধ কোনো সময়েই এমন কিছু ঘটেনি। এটি সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। যে শত্রুর নিজস্ব সংস্কৃতি নেই, সে সংস্কৃতির প্রতীকগুলোর মূল্য বোঝে না। যে দেশের ইতিহাস নেই, তারা ইতিহাসের নিদর্শনের প্রতি সম্মান দেখায় না।’
এদিকে এই সংঘাতে শুধু একটি দেশের নয়, বিভিন্ন দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মানবসভ্যতার অমূল্য এই সম্পদগুলোর অনেকটাই স্থায়ীভাবে হারিয়ে যেতে পারে।
সিএ/এমআর


