রমজান মাস শেষ হলেও ইবাদতের সুযোগ থেমে যায় না। শাওয়াল মাসে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য বিশেষ একটি আমলের সুযোগ রেখেছেন, যা ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক।
শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা এই বিশেষ আমল। এটি রমজানের প্রশিক্ষণকে ধরে রাখার একটি বাস্তব প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হয়।
আমরা কি চাইলেই সারাবছর রোজা রাখতে পারব? মনে হয় না। কাজটা বেশ কঠিন। কিন্তু মাত্র ছয় দিন রোজা রাখার ফলেই আমরা সেই কঠিন কাজটির সওয়াব পেতে পারি ইনশাআল্লাহ।
‘যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করল, তার জন্য থাকবে দশ গুণ প্রতিদান।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ (মুসলিম, আস-সহিহ ২/৮২২)
এই হিসাব অনুযায়ী রমজানের ৩০টি রোজা ও শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলিয়ে ৩৬টি রোজা হয়। প্রতিটি নেক আমলের দশ গুণ প্রতিদান বিবেচনায় এটি ৩৬০ দিনের সমান সওয়াবের সুযোগ তৈরি করে।
এই রোজাগুলো একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। পুরো মাসে সুবিধামতো দিন বেছে নিয়ে ছয়টি রোজা রাখা যায়। ধারাবাহিকভাবে বা বিরতি দিয়ে—উভয়ভাবেই এটি আদায় করা বৈধ।
তবে উত্তম হলো আগে ফরজ কাজা রোজা আদায় করা, এরপর নফল রোজা রাখা। প্রতিটি রোজার জন্য আলাদা নিয়ত করা জরুরি।
এই আমল রমজানের ঘাটতি পূরণেও সহায়ক এবং ইবাদত কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সিএ/এমআর


