গীবত বা পরনিন্দা একটি মারাত্মক নৈতিক ব্যাধি, যা মানুষের আমল বা সৎকর্মকে নষ্ট করে দেয় বলে ধর্মীয়ভাবে বিবেচিত। অন্যের অনুপস্থিতিতে তার দোষচর্চা বা সমালোচনা করাকেই গীবত বলা হয়, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গীবত থেকে দূরে থাকতে হলে প্রথমেই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এই পাপের পরিণতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে মানুষ সহজেই তা এড়িয়ে চলতে পারে। গীবতকে সাধারণ গুনাহ হিসেবে না দেখে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
মানুষের কথাবার্তার মধ্য দিয়েই অধিকাংশ গীবত সংঘটিত হয়। তাই প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া অপ্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে বিরত থাকা এবং সংযতভাবে কথা বলা জরুরি। কল্যাণকর কথা বলা বা নীরব থাকা—এই অভ্যাস গড়ে তুললে গীবত থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
একই সঙ্গে আল্লাহর জিকির বা স্মরণে জিহ্বাকে ব্যস্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষ অনর্থক বা ক্ষতিকর কথা বলা থেকে বিরত থাকতে পারে এবং নৈতিক শুদ্ধতা বজায় থাকে।
পরিবেশ ও সঙ্গও গীবতের একটি বড় কারণ। নিন্দুক বা গীবতপ্রবণ ব্যক্তিদের আসর এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমন পরিবেশে গীবতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
এছাড়া অন্যের দোষ নিয়ে আলোচনা না করে নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনে মনোযোগী হওয়া উচিত। এতে আত্মশুদ্ধি যেমন সম্ভব, তেমনি অন্যের সমালোচনার প্রবণতাও কমে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, গীবতের জন্য ক্ষমা পেতে হলে যার সম্পর্কে বলা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এতে যদি নতুন সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য দোয়া করা এবং তার প্রশংসা করার মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করা যেতে পারে।
সিএ/এমআর


