মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম ইবাদত। সাধারণভাবে ইবাদত বলতে নামাজ বা রোজার মতো নির্দিষ্ট আমলকে বোঝানো হলেও ইসলামে দোয়া নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত।
অনেকেই নামাজের পর দোয়া করাকে একটি নিয়মিত প্রথা হিসেবে দেখেন এবং মনে করেন এটি মূল ইবাদতের অংশমাত্র। আবার অনেকে কেবল বিপদের সময়ই দোয়ার দিকে মনোযোগ দেন। কিন্তু ইসলামের শিক্ষায় দোয়া এমন একটি ইবাদত, যা যেকোনো সময় এবং যেকোনো অবস্থায় করা যায়।
একটি হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, দোয়াই হলো ইবাদত (তিরমিজি: ২৯৬৯)। এ বক্তব্যের পর তিনি কোরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (সুরা গাফির, আয়াত: ৬০)।
ইসলামে দোয়া না করাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগ করেন (তিরমিজি: ৩৩৭৩)। তাই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরতা দেখায়।
দোয়া কখনোই বিফলে যায় না। হাদিসে বলা হয়েছে, কোনো মুসলিম যদি পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় ছাড়া দোয়া করে, তবে আল্লাহ তা তিনভাবে কবুল করেন—তাৎক্ষণিকভাবে, পরকালের জন্য সংরক্ষণ করে অথবা সমপরিমাণ কোনো বিপদ দূর করে দেন।
মহানবী (সা.)-এর জীবনে দোয়া ছিল প্রতিটি কাজের অংশ। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। তাই দোয়া শুধু বিপদের সময়ের জন্য নয়, বরং প্রতিদিনের একটি নিয়মিত ইবাদত হওয়া উচিত।
দোয়া করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও সুযোগ পেলেই দোয়া করা যায়। তবে দোয়ার আদবের মধ্যে পবিত্রতা, কিবলামুখী হওয়া এবং আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।
দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে হালাল উপার্জনের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ হারাম উপার্জন দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি করে। মূলত দোয়া হলো বান্দা ও স্রষ্টার মধ্যকার একান্ত আলাপন, যা মানুষকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে।
সিএ/এমআর


