আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয় এবং নারীর নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে আসে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলাম নারীর অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে কী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে, সেটিও আলোচনায় উঠে আসে।
নারী দিবসের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর সূচনা শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কে নারী শ্রমিকদের প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে এই ধারার সূচনা হয়। পরে ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণা আধুনিক সময়ের নয়। ইসলামের আবির্ভাবের বহু আগেই বিভিন্ন সমাজে নারীর অবস্থান ছিল অবহেলিত ও নিপীড়িত। বিশেষত জাহেলি যুগে নারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণ ছিল প্রচলিত, এমনকি কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নির্মম ঘটনাও ঘটত।
এমন প্রেক্ষাপটে ইসলাম নারীকে সম্মান ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলামে নারী ও পুরুষ উভয়কে মানবিক মর্যাদায় সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সমাজে তাদের পারস্পরিক পরিপূরক হিসেবে দেখা হয়েছে।
পরিবারব্যবস্থায় নারীর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। মা হিসেবে নারীর মর্যাদা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’ এই বক্তব্য নারীর সম্মানকে বিশেষভাবে তুলে ধরে।
স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকারও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে। বিবাহের সময় মোহরানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা নারীর আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে নারী নিজস্ব সম্পদের মালিক হতে পারে এবং তা ব্যবহারের স্বাধীনতা ভোগ করে।
উত্তরাধিকার ব্যবস্থায়ও নারীর নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সমাজে ছিল না। এর মাধ্যমে নারীর আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
ইসলাম কন্যাসন্তানের প্রতিও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে এবং তাদের লালন-পালনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছে। একই সঙ্গে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্দার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।
ইসলাম নারী-পুরুষের অধিকারকে তাদের স্বভাব ও দায়িত্ব অনুযায়ী ভারসাম্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে সমতা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকলেও তা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।
নারীর প্রতি সদাচরণকে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের প্রতি জোর দিয়েছেন, যা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি চলমান সামাজিক দায়িত্ব। ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণ করলে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সিএ/এমআর


