রমজান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত আল-কুদস দিবস মুসলিম বিশ্বের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এটি শুধু ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তার প্রতিফলন হিসেবেও পরিচিত।
১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী এই দিবস পালনের আহ্বান জানান। সেই থেকে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে এ দিবস পালিত হয়ে আসছে।
আল-কুদস শব্দটি জেরুজালেম শহরের আরবি নাম থেকে এসেছে। এই শহর মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি—তিন ধর্মের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমদের কাছে আল-আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।
প্রতি বছর এই দিনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন দেশে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এ দিবস ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। ২০২৬ সালে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ এতে অংশ নেয়, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
ফিলিস্তিন প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি জটিল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত। যুদ্ধ, দখলদারিত্ব, অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। আল-কুদস দিবস সেই সংকটকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি প্রতীকী উপলক্ষ।
এই দিবসকে অনেকেই শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ হিসেবেও বিবেচনা করেন। এটি একদিকে সংহতির প্রতীক, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতার প্রতিফলন।
সিএ/এমআর


