ইতিকাফ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময় মসজিদে অবস্থান করার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। রমজানের শেষ দশকে মুসল্লিরা দুনিয়ার নানা ব্যস্ততা থেকে নিজেকে আলাদা করে মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান।
আরবি শব্দ ‘ইতিকাফ’-এর অর্থ অবস্থান করা, নিবেদিত হওয়া বা একাগ্রভাবে কোনো কিছুর দিকে মনোনিবেশ করা। ইসলামী পরিভাষায় ইতিকাফ বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থান, যেখানে একজন মুসল্লি মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এবং জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন।
ইতিকাফের সময় মসজিদে অবস্থান করে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে সময় কাটানোকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়টিতে একজন মানুষ পার্থিব ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ পান।
তবে ইতিকাফের সময় ইবাদতের পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় কাজ করার অনুমতিও রয়েছে। পরিবার বা প্রয়োজনীয় বিষয়ে সীমিত পরিসরে কথা বলা যেতে পারে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিও অ্যাপ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বললেও ইতিকাফ ভঙ্গ হয় না বলে ধর্মীয় বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।
তবে তারা সতর্ক করেছেন, ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। অপ্রয়োজনীয়ভাবে মোবাইল ব্যবহার করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো বা বিনোদনমূলক ভিডিও দেখা ইতিকাফের মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারে সংযম রাখা উচিত। কারণ ইতিকাফের সময়টিকে আত্মিক উন্নয়ন ও ইবাদতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সিএ/এমআর


