রমজান মাসের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতিকাফ করা আবশ্যক। রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ, কোনো এলাকায় একজন ব্যক্তি ইতিকাফ আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। আর কেউ তা পালন না করলে এলাকাবাসী সবাই গুনাহগার হন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মনে কর সেই সময়কে, যখন আমি কাবা ঘরকে মানুষের মিলনক্ষেত্র ও আশ্রয়স্থল করেছিলাম। আর আমি বলেছিলাম, তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকেই নামাজের জায়গা হিসেবে গ্রহণ কর। আর আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করি; তোমরা আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে, তাদের জন্য যারা এটা প্রদক্ষিণ করবে, এখানে বসে ইতিকাফ করবে এবং এখানে রুকু ও সিজদা করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৫)।
হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) অনেক নফল ইবাদত করতেন আবার কখনো তা ছেড়ে দিতেন। তবে মদিনায় হিজরতের পর জীবদ্দশায় তিনি রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ কখনো ত্যাগ করেননি।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে, তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরা পালন করার সওয়াব দান করা হবে। (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৩৬৮০)
ইতিকাফের সময় সাধারণত ইবাদতকারীর সার্বক্ষণিক মসজিদে অবস্থান করা প্রয়োজন হয়। এ সময় ইবাদত-বন্দেগীতে সময় কাটানো এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইতিকাফকারীরা মসজিদের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে হাঁটাচলা করতে পারেন। প্রয়োজনে মসজিদের ছাদেও যাওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে—ছাদে ওঠার সিড়ি অবশ্যই মসজিদের ভেতরে থাকতে হবে।
যদি ছাদে ওঠার সিড়ি মসজিদের বাইরে থাকে, তাহলে ইতিকাফকারী সেই পথে ছাদে উঠতে পারবেন না। বাইরে থাকা সিড়ি ব্যবহার করে ছাদে উঠলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
সিএ/এমআর


