ইসলামে জাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং এটি গরিব মানুষের অধিকার হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক হক আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু বান্দার হক মানুষের কাছেই থেকে যায়। তাই জাকাতের মাধ্যমে ধনী মানুষের সম্পদের একটি অংশ গরিব ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
কুরআনে একাধিক স্থানে সালাতের সঙ্গে জাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক। (সুরা যারিয়াত ১৯)
ইসলামের দৃষ্টিতে জাকাত দেওয়া কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। বরং এটি গরিব মানুষের ন্যায্য অধিকার। আল্লাহ তাআলা মানুষের সম্পদে অন্যের হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই যখন কেউ জাকাত আদায় করেন, তখন তিনি আসলে গরিব মানুষকে তার প্রাপ্যটুকুই ফিরিয়ে দেন।
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত, তার একটি হলো সম্পদ থেকে জাকাত আদায় করা। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
ইসলামে প্রতিটি ফরজ ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট মর্যাদা ও শিষ্টাচার রয়েছে। যেমন নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদকে সম্মান করা হয় এবং সেখানে বিনয় ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা হয়। একইভাবে হজ পালনেও মানুষ আত্মিক ও আর্থিক প্রস্তুতি নিয়ে পবিত্র স্থানে যায়। রোজার ক্ষেত্রেও মানুষ নিজের আচরণ ও নফস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।
কিন্তু অনেক সময় জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই সম্মান বজায় রাখা হয় না। অনেকেই গরিব মানুষকে অবহেলা করে এমন পোশাক বা জিনিস দেন যা ব্যবহারযোগ্য থাকে না। অথচ ইসলামে দরিদ্র মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা কখনো পূর্ণ কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো। (সুরা আল-ইমরান ৩:৯২)
রসুলুল্লাহ সা. বলেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তাই ভালোবাসে। (সহিহ বুখারি ২, সহিহ মুসলিম ৬৬২)
ইসলামের শিক্ষায় জাকাত শুধু দরিদ্র মানুষের সহায়তা নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক বিনিয়োগ। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর দৃষ্টিতে তা ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে জাকাত তোমরা দাও, তা-ই বৃদ্ধি পায়। সুতরাং তারাই সমৃদ্ধিশালী। (সুরা রুম: ৩৯)
কুরআনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, যারা সম্পদ জমা করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের জন্য কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা স্বর্ণ-রৌপ্য সঞ্চয় করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। (সুরা আত-তাওবা ৯:৩৪–৩৫)
সিএ/এমআর


