রমজান মাস ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা পালন করেন। তবে নানা কারণে কেউ রোজা রাখতে না পারলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেললে তার প্রতিকার হিসেবে ইসলামি শরিয়তে কাজা, কাফফারা ও ফিদিয়ার বিধান রয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কেউ যদি রোজা রেখে অযথা তা ভেঙে ফেলেন, তাহলে তাকে রোজার কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হয়। কাফফারা হলো অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণমূলক ইবাদত, যা রোজা ভঙ্গের প্রতিকার হিসেবে নির্ধারিত।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজার কাফফারা আদায়ের প্রথম ধাপ হলো একটি দাস মুক্ত করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ধারাবাহিকভাবে ৬০ দিন রোজা রাখতে হবে। আর যদি কেউ এত দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে অক্ষম হন, তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাবার খাওয়ানোর বিধান রয়েছে।
বেশিরভাগ ফকিহ মনে করেন, কাফফারার রোজা ধারাবাহিকভাবে আদায় করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ মাঝখানে বিরতি দিলে আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। যদি কেউ একটি রোজা অযথা ভেঙে ফেলেন, তাহলে তার জন্য একটি কাজা রোজার পাশাপাশি ৬০ দিনের কাফফারা রোজা আদায় করতে হবে।
এর ফলে মোট ৬১টি রোজা আদায় করতে হয়। একইভাবে দুটি রোজা ভাঙলে ৬২টি এবং তিনটি রোজা ভাঙলে ৬৩টি রোজা আদায় করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন ধর্মীয় বিশ্লেষকেরা।
কাফফারার রোজা আদায়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। যদি গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া মাঝপথে রোজা ভেঙে যায়, তাহলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। তবে নারীদের বিশেষ পরিস্থিতিতে বিরতির সময় বাদ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে রোজা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।
শিশুদের ক্ষেত্রে রোজা ফরজ নয়। তারা যদি উৎসাহ বা অনুশীলনের জন্য রোজা রেখে পরে তা ভেঙে ফেলে, তাহলে তাদের ওপর কাজা বা কাফফারার কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে না।
সিএ/এমআর


