ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে ইতিকাফ একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুশীলন। হজরত উম্মে ছালামাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি আমল জীবনে কখনো পরিত্যাগ করেননি—তাহাজ্জুদ নামাজ, প্রতি চান্দ্রমাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ ‘আইয়ামে বিদ’ এর রোজা পালন ও রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ।” (জামিউস সগীর ও সহিহ বুখারি: ১৯৭৫)
ইতিকাফ শব্দের অর্থ অবস্থান করা বা নিজেকে নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা। এটি এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন মুসলমান দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিবিষ্ট রাখেন।
রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই সময়ের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কোরআনে বলা হয়েছে, “আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১২৫)
ফিকহ অনুযায়ী রমজানের ২০তম দিনের সূর্যাস্তের আগে থেকে ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রমজান পূর্ণ হয়ে সূর্যাস্ত হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়াহ। কোনো মহল্লার মসজিদে কয়েকজন বা অন্তত একজন এই ইতিকাফ পালন করলে এলাকার সবাই দায়মুক্ত হন। তবে কেউই পালন না করলে সবাই সুন্নত ত্যাগের দায়ে দায়ী থাকবেন।
পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতিকাফ করা আবশ্যক, আর নারীরা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে ইতিকাফ করতে পারেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করা উচিত নয়। অজু বা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে গেলে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আচরণ নিষিদ্ধ। কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ো না, যখন তোমরা ইতিকাফরত থাকবে মসজিদে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭)
সারা বছরই ইতিকাফ করা সম্ভব হলেও রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে একদিন বা ২৪ ঘণ্টা রোজাসহ ইতিকাফ পালন করা সুন্নত। নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করতে হয় এবং পরদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হয়।
সিএ/এমআর


