ইসলামি দৃষ্টিতে মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সফলতা হলো জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভ এবং জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ অর্জন করা। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, দুনিয়ায় শান্তি এবং পরকালে মুক্তিই মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে। যাকে অগ্নি থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃত সফলকাম। পার্থিব জীবন মূলত ক্ষণস্থায়ী এবং ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়। (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
ইসলামি শিক্ষায় নাজাত বা মুক্তির অন্যতম উপায় হিসেবে তওবা ও ইস্তিগফারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তওবার অর্থ হলো পাপ থেকে ফিরে এসে সৎকর্মে মনোযোগ দেওয়া। আর ইস্তিগফার হলো নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে সেই পাপ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করা।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে রমজানকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। এই মাসে সিয়াম পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করা।
নাজাতের অর্থ হলো মুক্তি পাওয়া বা মুক্ত হওয়া। রমজানের নাজাতের তাৎপর্য হলো মানুষ এই মাসে পাপ থেকে দূরে থাকবে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য চেষ্টা করবে এবং আল্লাহর অসন্তোষজনক কাজ থেকে বিরত থাকবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়ার আকর্ষণ সব পাপের মূল।’ (মিশকাত: ৫৯, বায়হাকি: ৫২১৩)
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, মানুষ দুনিয়ার জীবনের প্রতি অনেক বেশি আকৃষ্ট থাকে এবং দীর্ঘ জীবন কামনা করে। কিন্তু দীর্ঘ আয়ু কাউকে আল্লাহর শাস্তি থেকে দূরে সরাতে পারে না। মানুষ যা কিছু করে, আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ৯৬)
ইসলামি চিন্তায় মানুষের নফসের তিনটি স্তর রয়েছে—নফসে আম্মারা, নফসে লাউওয়ামা এবং নফসে মুতমাইন্না। নফসে আম্মারা হলো এমন সত্তা যা মানুষকে পাপের দিকে আহ্বান করে। নফসে লাউওয়ামা হলো অনুতপ্ত সত্তা, যা ভুল করার পর অনুশোচনা করে এবং সংশোধনের চেষ্টা করে। আর নফসে মুতমাইন্না হলো প্রশান্ত সত্তা, যা সৎকর্মে অনুপ্রাণিত করে এবং পাপ থেকে দূরে রাখে।
রমজানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নফসে আম্মারা ও নফসে লাউওয়ামাকে নফসে মুতমাইন্নায় রূপান্তর করা। অর্থাৎ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়া।
এ কারণে ইসলামি শিক্ষায় আত্মসংযম, সৎ সঙ্গ গ্রহণ এবং অসৎ সঙ্গ ত্যাগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও। (সুরা-৯ তওবা, আয়াত: ১১৯)
নাজাতের প্রকৃত অর্থ হলো সব ধরনের দোষত্রুটি থেকে নিজেকে মুক্ত করা, আত্মাকে পবিত্র রাখা এবং সৎগুণ অর্জনের মাধ্যমে স্থায়ী মুক্তি নিশ্চিত করা।
সিএ/এমআর


