ইসলামে নামাজ আদায়ের পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা, আর সেই পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম অজু। অজুর গুরুত্ব সম্পর্কে এক হাদিসে জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জান্নাতের চাবি হল নামাজ। আর নামাজের চাবি হল পবিত্রতা (অজু)। (মুসনাদে আহমাদ, ১৪৭০৩; তিরমিজি, ৪)।
তবে রমজান মাসে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, রোজা রেখে অজু করার সময় কীভাবে কুলি করতে হবে। ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী রোজা অবস্থায় কুলি করা যাবে, তবে এতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
রোজা রাখা অবস্থায় গড়গড়া করে কুলি করলে পানি ভেতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে রোজাদারের জন্য জোরে গড়গড়া করে কুলি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বরং অজুর সময় হালকাভাবে কুলি করা উত্তম, যাতে পানি গলায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
একইভাবে অজুর সময় নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। নাকের গভীরে পানি প্রবেশ করানোর চেষ্টা না করে হালকাভাবে পানি দেওয়া উচিত, যাতে তা ভেতরে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।
লাকিত ইবনে সবিরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, (ওজু-গোসলের) সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোজাদার হলে নয়। (জামে তিরমিজি ৭৬৬)।
ইসলামী ফিকহবিদদের মতে, রোজা অবস্থায় নাকে বেশি পানি দেওয়া বা কুলি করার সময় জোরে গড়গড়া করা মাকরূহ। কারণ এতে অসাবধানতাবশত পানি কণ্ঠনালীতে প্রবেশ করতে পারে এবং রোজা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে প্রয়োজন ছাড়া বারবার কুলি করা বা ঘন ঘন মুখে পানি দেওয়া থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও অসাবধানতাবশত পানি গলায় না গেলে রোজা নষ্ট হবে না।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, রোজা রেখে অজু করার সময় স্বাভাবিকভাবে কুলি করা যাবে, তবে গড়গড়া করা বা অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করে সতর্কভাবে অজু করা উত্তম। এতে রোজা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং অজুর বিধানও ঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হবে।
সিএ/এমআর


